প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের গুজরাটের আনন্দ জেলায় মধ্যরাতে কুকুরের ভয়ের ডাক শুনে গৃহকর্তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি ভাবতে থাকেন কুকুরটি কী কারণে এতটা ডেকে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তিনি বাড়ির বাথরুমে গিয়ে দেখতে পান সেখানে সাত ফুট লম্বা এক জলজ্যান্ত কুমির রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারটি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
বাড়ির মালিক বলভাই চৌহান বলেন, গভীর রাতে বাড়ির বাইরে একনাগাড়ে কুকুরের ডাক শুনে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। পরে বাথরুমের দরজা খুলতেই বিশালাকার ওই কুমিরের মুখোমুখি হন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবিলম্বে বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়। এরপর বন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় একটি বন্য প্রাণী উদ্ধার ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টার অভিযানের পর কুমিরটিকে নিরাপদে বন্দী করতে সক্ষম হন তারা। পরে সেটিকে কাছের একটি পুকুরে মুক্ত করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি উদ্ধার অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য গৃহস্থালি জিনিসপত্রে ঠাসা একটি ঘিঞ্জি বাথরুম। সেখানে কুমিরটির শরীরে দড়ির ফাঁস লাগিয়ে এবং একটি লম্বা লাঠির সাহায্যে এক ব্যক্তি সেটিকে টেনে বের করার চেষ্টা করছেন। উদ্ধারের পর প্রাণীটিকে নিরাপদ জলাশয়ে ফিরে নেওয়া ছিল মূল লক্ষ্য।
বন কর্মকর্তাদের মতে, বর্ষাকালে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ভারী বৃষ্টিতে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে কুমিরগুলো তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে চলে আসে। মূলত খাবারের সন্ধানে অথবা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে বাস্তুতন্ত্রের কাছাকাছি আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, পার্শ্ববর্তী মালাতাজ গ্রামের একটি পুকুরে ১০০টির বেশি কুমির রয়েছে। সেজন্য ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সময় প্রাণীগুলোর রাস্তাঘাটে কিংবা মানুষের বাড়িঘরে চলে আসার আশঙ্কা অনেক বেশি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন