প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার এই হামলা শুরু করা হয়েছে।
ইরানের সতর্কতার একদিন পরেই আবারও হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
তেহরান জানিয়েছিল যে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তারা পাল্টা হামলা শুরু করবে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা, ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের প্রাচীন উপকূলীয় শহর টায়ারের একটি আবাসিক এলাকায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এর আগে সোমবার ওই এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়। নিখোঁজ বাসিন্দাদের সন্ধানে যখন উদ্ধার অভিযান চলছিল, তখন মঙ্গলবার আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, টায়ার এলাকার ‘হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। রবিবার ও সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পরে দুই দেশই হামলা স্থগিত করলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান চলতে থাকলে ইরান পুনরায় পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
তবে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ ছিল না। সংগঠনটি জানিয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করা পর্যন্ত তারা এই চুক্তির প্রতি সম্মান দেখাবে না।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে টায়ারের বাসিন্দাদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেন।
তিনি বলেছেন, “হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হামলা চালিয়েছে। এর জেরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে।”
তিনি টায়ারের খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দাদেরও সরে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এটি ছিল বিরল ধরনের একটি সতর্কতা, কারণ এটি দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েল দাবি করেছে যে, হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে।
মূলত, টায়ার শহর থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে, কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। টায়ার শহরটি উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত এবং ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার উত্তরে রয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে নতুন এই হামলা ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতকে আবারও তীব্র করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। সূত্র: সিএনএন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন