০১:০৩ এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান ‘সব ধরনের শত্রুতা চিরতরে বন্ধ করার জন্য’ একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এর মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত আছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। চীন, সৌদি আরব, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেনসহ বিশ্বের অনেক দেশ এই চুক্তির প্রশংসা করেছে। তারা মন্তব্য করেছে যে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং আমাল মুভমেন্টের নেতা ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যে, লেবাননকেও এই চুক্তির আওতায় রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঐক্যের সরকার চান নেতানিয়াহু, ইসলামপন্থিদের সঙ্গে জোট গঠনে হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই চুক্তি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশকে খুশি করলেও, ইসরাইল এটাকে তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করছে এবং চুক্তি মানতে অস্বীকার করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা দক্ষিণ লেবাননের দখল করা এলাকা থেকে সেনা সরাবে না। গাজা এবং সিরিয়ার কিছু অংশেও তারা দখল বজায় রাখবে। অন্য সকল রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির লেবানন-সংক্রান্ত কোনো ধারায় ইসরাইল নিজেকে ‘সংশ্লিষ্ট’ মনে করে না।
চুক্তির একটি ধারা রয়েছে, যা লেবাননসহ একাধিক ফ্রন্টে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। এটি ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সৌদির বিমান হামলায় নিহত ৩৩, আহত ৩৯
ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে পরিষ্কার করে বলেছেন যে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযান চালানোর সক্ষমতা সীমিত করে এমন কোনো ব্যবস্থাই ইসরাইল মেনে নেবে না।
নেতানিয়াহু সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী উগ্র ধর্মীয় নেতা ইতামার বেন-গভির বলেছেন, ‘ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। আমরা এই চুক্তির পক্ষে নই। এটা আমাদের নিরাপত্তা রক্ষা করে না। হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত আমরা সন্তুষ্ট হব না। আমাদের সেনারা যে জমি দখল করেছে, তার এক ইঞ্চিও ছাড়ব না।’
অর্থমন্ত্রী এবং আরেক উগ্র ধর্মীয় নেতা বেজালেল স্মোট্রিচ বলেছেন, ‘এই চুক্তি ইসরাইলের জন্য খারাপ। আমাদের নিজেদের উদ্যোগে ইরানি শাসনকে উৎখাত করতে হবে এবং ইরান যাতে কখনো নিউক্লিয়ার অস্ত্র না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই চুক্তিকে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ায়ির গোলান বলেছেন, ‘ইসরাইলের সামরিক সাফল্যগুলো এক কলমের খোঁচায় মুছে ফেলা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিল ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহু যুদ্ধে হেরে গেছেন এবং সত্যের সামনে ভেঙে পড়েছেন। তিনি অতিরিক্ত বলেন: ‘ইরান ফ্রন্টে নেতানিয়াহুর কূটনৈতিক ব্যর্থতার চেয়ে চরম ব্যর্থতা আর কখনও হয়নি।’
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন যে, ‘বিদ্যমান এবং ভবিষ্যতে আসতে থাকা সমস্ত চাপ সত্ত্বেও’ ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে আসবে না, যেখানে তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন