ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান


শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান

গরম, আর্দ্রতা এবং ঘামঝরানো দিনের পর শীতকাল যেন স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে। এই সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক থাকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগও বৃদ্ধি পায়। কুয়াশায় ঢাকা চা-বাগান, দূরের পাহাড়ের দৃশ্য, অতিথি পাখির কলকাকলি অথবা প্রাচীন স্থাপনার ইতিহাস—শীতকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

পরিবারের সঙ্গে কয়েক দিনের ছুটি কাটানো, বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণ অথবা একান্তে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো—সব ধরনের পরিকল্পনার জন্য দেশে রয়েছে নানা গন্তব্য। কোথাও দেখা মিলতে পারে বরফঢাকা হিমালয়ের দূরবর্তী চূড়ার, আবার কোথাও শীতের অতিথি পাখিতে মুখর হয়ে ওঠে জলাভূমি। ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য রয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধবিহার, আর প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে বন, পাহাড় ও সমুদ্র।

শীতের ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ঘুরে দেখতে পারেন বাংলাদেশের এই আটটি দর্শনীয় স্থান।

আরও পড়ুন: পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি দিন বাঁচেন?

১. তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, বিস্তীর্ণ চা-বাগান এবং হিমালয়ের দৃশ্যের জন্য পরিচিত। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা বেশ কমে যেতে পারে। ভোরের ঘন কুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাস তেঁতুলিয়ার পরিবেশকে অন্যরকম করে তোলে।

এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে মহানন্দা নদীর তীর ও তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো এলাকা থেকে দূরের বরফঢাকা পাহাড়ের চূড়া দেখা যেতে পারে। তবে এই দৃশ্য আবহাওয়ার স্বচ্ছতার ওপর নির্ভরশীল। তাই ভ্রমণের আগে স্থানীয় আবহাওয়ার খবর নেওয়া ভালো।

তেঁতুলিয়ায় গিয়ে চা-বাগানের সবুজ পরিবেশ উপভোগ করা, মহানন্দা নদীর তীরে সময় কাটানো এবং স্থানীয় জনপদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে। যারা ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা বিরতি নিতে চান, তাঁদের জন্য এই অঞ্চল আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।

আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

শীতের সকালে বের হলে গরম পোশাক সঙ্গে রাখা জরুরি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পরিকল্পনা থাকলে ভ্রমণের সময় ও আবহাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

২.হাকালুকি হাওর, সিলেট ও মৌলভীবাজার

শীতকালে অতিথি পাখির আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে বিস্তৃত হাকালুকি হাওর। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই মিঠাপানির জলাভূমি বিভিন্ন প্রজাতির জলচর পাখির মৌসুমি আবাসস্থল। শীতের সময় দূরদেশ থেকে আসা পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি হাওরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।

হাওরের জলাশয়গুলোতে পিনটেইল, সরালি ও বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস দেখা যেতে পারে। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ভরে থাকলেও শীতকালে পানি কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও জলাভূমির মাঝখানে ভূমি জেগে ওঠে। এতে হাওরের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল

পাখি দেখার জন্য ভোরের সময়টি তুলনামূলক ভালো। দূরবীন সঙ্গে রাখলে দূর থেকে পাখি পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়। তবে পাখিদের বিরক্ত করা, তাদের দিকে ঢিল ছোড়া কিংবা উচ্চ শব্দ করে তাদের আবাসস্থলে বিঘ্ন ঘটানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের জন্য হাকালুকি হাওর হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য। তবে ভ্রমণের আগে স্থানীয় যাতায়াতব্যবস্থা, নৌকার সুবিধা এবং আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভালো।

৩. পাহাড়পুর, নওগাঁ

প্রকৃতির পাশাপাশি ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বে আগ্রহীদের জন্য নওগাঁর পাহাড়পুর হতে পারে শীতের ছুটিতে ঘুরে দেখার উপযুক্ত জায়গা। এখানে রয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধবিহার সোমপুর মহাবিহার। পাল আমলে নির্মিত এই স্থাপনাটি দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধ স্থাপত্য ও শিক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাতেও রয়েছে এটি।

আরও পড়ুন: ৫৩ বছরেও ফিট থাকার জন্য শচীন ছেড়ে দিলেন দুই বদঅভ্যাস

বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তীর্ণ এই প্রত্নস্থানে রয়েছে প্রাচীন বিহারের ধ্বংসাবশেষ, ইটের নির্মাণশৈলী ও পোড়ামাটির ফলকে তৈরি নানা অলংকরণ। এসব নিদর্শন থেকে সে সময়ের স্থাপত্য, শিল্পকলা ও ধর্মীয় জীবনের নানা দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

শীতের তুলনামূলক আরামদায়ক আবহাওয়ায় হেঁটে পুরো এলাকা ঘুরে দেখা সহজ হয়। দর্শনার্থীরা বিহারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখতে পারেন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন। ঐতিহাসিক স্থানটি ঘুরে দেখার সময় এর স্থাপনা ও প্রত্নবস্তুর সংরক্ষণে সচেতন থাকা জরুরি।

হাতে বাড়তি সময় থাকলে আশপাশের অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানও ভ্রমণ পরিকল্পনায় রাখা যেতে পারে। যেমন, বগুড়ার মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। তবে একাধিক গন্তব্যে যাওয়ার আগে দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় হিসাব করে নেওয়া ভালো।

৪. সুন্দরবন

আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

বন, নদী ও বন্যপ্রাণীর বৈচিত্র্য উপভোগ করতে চাইলে শীতকালে সুন্দরবন ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে রয়েছে চিত্রা হরিণ, কুমির, বানর, নানা প্রজাতির পাখি এবং বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার।

সুন্দরবনের আকর্ষণ শুধু বন্যপ্রাণী নয়; নদী ও খালের জালের মতো বিস্তৃত জলপথ, ম্যানগ্রোভ গাছের শ্বাসমূল এবং বনজ পরিবেশও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। নৌযানে করে নির্ধারিত পথে ভ্রমণ করলে বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করা যায়।

শীতের তুলনামূলক শুষ্ক ও আরামদায়ক আবহাওয়া নৌভ্রমণকে স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। পর্যটকদের পরিচিত গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে করমজল ও কটকা। তবে বনের ভেতরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পথ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি।

সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী দেখার বিষয়টি অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই বাঘ বা অন্য কোনো প্রাণী দেখতেই হবে—এমন প্রত্যাশা না রেখে বনের সামগ্রিক পরিবেশ উপভোগ করাই ভালো। ভ্রমণের আগে অনুমতি, নৌযান, গাইড ও আবাসনের ব্যবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা উচিত।

আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা

৫. কুয়াকাটা, পটুয়াখালী

সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা হতে পারে পছন্দের গন্তব্য। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই সমুদ্রসৈকত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগের জন্য পরিচিত। সমুদ্রের দিগন্তে সূর্যের রং বদলানোর দৃশ্য দেখতে অনেক পর্যটক এখানে ভিড় করেন।

সৈকতে হাঁটা, ঢেউয়ের শব্দ শোনা কিংবা সমুদ্রের পাশে বসে সময় কাটানো—সবই হতে পারে শীতের ছুটির আনন্দের অংশ। স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য এবং উপকূলীয় এলাকার জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগও রয়েছে।

কুয়াকাটা ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোও ঘুরে দেখা যেতে পারে। তবে কোথাও যাওয়ার আগে যাতায়াতব্যবস্থা, স্থানীয় পরিবহন ও আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।

সমুদ্রের কাছে গেলে নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। জোয়ার-ভাটা ও সমুদ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয়দের পরামর্শ মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পানিতে না নামাই নিরাপদ।

৬. শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার

চা-বাগান, সবুজ পাহাড় আর কুয়াশাচ্ছন্ন সকালের জন্য মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পর্যটকদের কাছে পরিচিত। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, চা-শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা এবং চা তৈরির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় জীবনযাত্রা এ অঞ্চলের ভ্রমণকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দেয়।

শীতকালে চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটা, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ এবং স্থানীয় চায়ের স্বাদ নেওয়া যায়। যারা ব্যস্ত শহর থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য শ্রীমঙ্গল ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।

শ্রীমঙ্গলের আশপাশে বনাঞ্চল ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক গন্তব্য রয়েছে। সেগুলো ঘুরে দেখার সময় নির্ধারিত পথ ব্যবহার করা এবং স্থানীয় পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রয়োজন। বনের মধ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে হবে।

এখানে ভ্রমণের জন্য এক বা দুই দিনের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তবে কোথায় থাকবেন এবং কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখবেন, তা আগে থেকে ঠিক করে নিলে সময়ের সদ্ব্যবহার করা সহজ হবে।

৭. সাজেক উপত্যকা, রাঙামাটি

পাহাড়, মেঘ আর সবুজের সমন্বয়ে সাজেক উপত্যকা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয়। রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এই পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় শীতের সকালে কুয়াশা ও মেঘে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

সাজেকের পাহাড়ি পথ, উঁচু-নিচু ভূপ্রকৃতি এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কেও জানার সুযোগ রয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্থানীয় নিয়ম ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমতি ছাড়া তাঁদের ছবি তোলা কিংবা ব্যক্তিগত জায়গায় প্রবেশ করা উচিত নয়। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও পর্যটকদের দায়িত্ব।

সাজেকে যাওয়ার আগে পাহাড়ি সড়কের অবস্থা, যানবাহনের ব্যবস্থা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি। আবহাওয়া খারাপ থাকলে যাত্রায় সমস্যা হতে পারে। তাই পরিকল্পনায় কিছুটা বাড়তি সময় রাখা ভালো।

৮. সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

নীল জলরাশি, প্রবাল ও সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ পরিচিত। কক্সবাজার জেলার টেকনাফের দক্ষিণে অবস্থিত এই দ্বীপ বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় সামুদ্রিক গন্তব্য। শহরের কোলাহল থেকে দূরে সমুদ্রের কাছাকাছি সময় কাটাতে চান এমন পর্যটকদের কাছে দ্বীপটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।

দ্বীপে গিয়ে সমুদ্রসৈকতে হাঁটা, উপকূলের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে। তবে সেন্ট মার্টিনের প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভ্রমণের সময় প্রবাল সংগ্রহ, যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা কিংবা সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কাজ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত ও পর্যটনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ, জাহাজ চলাচলের সময়সূচি এবং পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের তারিখ ঠিক করার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি। অনুমোদিত পরিবহন ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যাত্রা পরিকল্পনা করা উচিত।

ভ্রমণের আগে যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন

শীতকালে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া ও যাতায়াতের পরিস্থিতি এক রকম থাকে না। উত্তরের জেলাগুলোতে ভোরে তীব্র ঠান্ডা ও কুয়াশা থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় সড়ক পরিস্থিতি এবং সমুদ্র উপকূলে আবহাওয়ার পরিবর্তন ভ্রমণকে প্রভাবিত করতে পারে।

তাই ভ্রমণের আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা ভালো:

আবহাওয়ার খবর নিন: বিশেষ করে তেঁতুলিয়া, সাজেক ও সমুদ্র উপকূলের গন্তব্যে যাওয়ার আগে আবহাওয়া সম্পর্কে জেনে নিন।

যাতায়াত ও আবাসন ঠিক করুন: ছুটির সময়ে পর্যটকের চাপ বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে আগে থেকে পরিবহন ও থাকার ব্যবস্থা করুন।

প্রয়োজনীয় পোশাক নিন: উত্তরের অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় ভোর ও রাতে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।

পরিবেশের ক্ষতি করবেন না: বন, হাওর, পাহাড় ও দ্বীপে আবর্জনা ফেলবেন না। বন্যপ্রাণী ও পাখিকে বিরক্ত করা থেকেও বিরত থাকুন।

স্থানীয় নিয়ম মানুন: সংরক্ষিত বন, পাহাড়ি এলাকা ও দ্বীপে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনুমতি ও নিরাপত্তানির্দেশনা মেনে চলুন।

শীতের ছুটিতে কোথায় যাবেন, তা নির্ভর করে আপনার পছন্দ, সময় ও বাজেটের ওপর। পাহাড়, সমুদ্র, বন, হাওর কিংবা ইতিহাস—যে ধরনের ভ্রমণই বেছে নিন, আগে থেকে পরিকল্পনা করে বের হলে অভিজ্ঞতা আরও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৩৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২১ পি.এম


স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৩৯

স্পেনে দুটি উচ্চগতির (হাই-স্পিড) ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ফলে রাজধানী মাদ্রিদ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের মধ্যকার সমস্ত রেল যোগাযোগ পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে।

স্পেনীয় রেল অবকাঠামো অপারেটর 'আদিফ' (Adif)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার ঠিক আগে দেশটির তলেদো প্রদেশের উরদা (Urda) এবং লস ইবেনেস (Los Yébenes) শহরের কাছাকাছি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে একটি রেনফে এভই (Renfe AVE) ট্রেন এবং একটি ইরিয়ো (Iryo) উচ্চগতির ট্রেন পরস্পরের মুখোমুখি বা পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা খায়।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেন দুটির অন্তত দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের খাদের নিচে গিয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ছুটে গেছেন এবং আহতদের চিকিৎসায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

চলতি বছরে স্পেনে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হাই-স্পিড ট্রেন দুর্ঘটনা। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘটিত এক মারাত্মক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হয়েছিলেন। সে সময় মাদ্রিদগামী ও মাদ্রিদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে শত শত যাত্রী হতাহতের শিকার হন। বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় স্পেনের উন্নত রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাহুলের অভিযোগ, টাটা গোষ্ঠীকে ‘ধ্বংসের’ জন্য মোদি-শাহকে নিশানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


রাহুলের অভিযোগ, টাটা গোষ্ঠীকে ‘ধ্বংসের’ জন্য মোদি-শাহকে নিশানা

ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটার অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, টাটা গোষ্ঠীকে ‘অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস’ করা হচ্ছে এবং প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের শিল্পপতিরা এ বিষয়ে কেন নীরব রয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহুলের এই মন্তব্য প্রকাশের পর ভারতের রাজনৈতিক ও শিল্প মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং টাটা গোষ্ঠীর মূল নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে রাহুলের এই বক্তব্য এসেছে। তবে টাটা গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার অভিযোগের পক্ষে তিনি নিজের পোস্টে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। একইভাবে, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগের পক্ষে প্রকাশিত বক্তব্যে নির্দিষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে।

রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন যে, ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য কোনো রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত খেলার বিষয় হতে পারে না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এ পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পপতিরা কেন মুখ খুলছেন না।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, শিল্প মহলের অনেকের সাহসের অভাব থাকতে পারে, কিন্তু কংগ্রেস এ বিষয়ে নীরব থাকবে না। তিনি যে ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে অভিহিত করছেন, তার বিচার নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সামনে রেখে রাহুল গান্ধী বৃহত্তর পরিসরে শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং ব্যবসায় সরকারি হস্তক্ষেপের প্রশ্ন তুলতে চাইছেন। ফলে দীর্ঘদিনের এই শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালনা নিয়ে বিরোধ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।

কী নিয়ে টাটা গোষ্ঠীতে বিরোধ

টাটা সন্সের নির্বাহী চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনকে আরও পাঁচ বছরের জন্য পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়ম মেনে হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) টাটা সন্সের কোম্পানি সচিবকে একটি চিঠি দেন নোয়েল। সেখানে তিনি পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের আগে পাঠানো আলোচ্যসূচিতে চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ না থাকার কারণ জানতে চান। পাশাপাশি বৈঠকের সম্পূর্ণ ও সম্পাদনাহীন ভিডিও রেকর্ডিংও চেয়েছেন নোয়েল।

টাটা ট্রাস্টসের অবস্থান হলো, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মনোনীত পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে, টাটা সন্স এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। পুনর্নিয়োগের সিদ্ধান্তের বৈধতার পক্ষে আইনি মতামতের কথাও তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিরোধের ফলে টাটা গোষ্ঠীর পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে।

আগেও সরব হয়েছিলেন শরদ পওয়ার

টাটা গোষ্ঠীর এই বিরোধ নিয়ে এর আগে বক্তব্য দিয়েছিলেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির শরদচন্দ্র পওয়ার গোষ্ঠীর প্রধান শরদ পওয়ার। তিনি টাটা পরিবারের দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে টাটা ট্রাস্টসের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

তবে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের পর বিরোধটি আরও সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ পেয়েছে। তার অভিযোগের বিষয়ে বুধবার পর্যন্ত বিজেপির কোনো নেতার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাটা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয়, চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে নোয়েল টাটার আপত্তির কী নিষ্পত্তি হয় এবং রাহুল গান্ধীর অভিযোগের বিষয়ে বিজেপি কী অবস্থান নেয়—এখন সেদিকেই নজর ভারতের রাজনৈতিক ও শিল্প মহলের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৩ পি.এম


বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার

বগুড়ার শিবগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি তেযাবী স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির জন্য নগদ ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন– দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুরের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাদিকুল ইসলাম, একই এলাকার মৃত আতোয়ার আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৩), জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলা ভীমপুর এলাকার আনসার আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬) এবং একই উপজেলার বালিঘাটা বাজার এলাকার আমিনুল ইসলাম মুকুলের ছেলে আসাদুজ্জামান শাহিদ (২৮)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, গত ৫ অক্টোবর সকালে শহরের গোলপট্টির স্বনামধন্য স্বর্ণ ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলামের খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেন (২৭) ১০টি তেযাবী স্বর্ণের বার (মোট ওজন ১০২ ভরি ১২ আনা) নিয়ে বাসে জয়পুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বেলা সোয়া ১২টার দিকে বাসটি শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথুলি নামক স্থানে পৌঁছালে ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাস থামায়। পরে তারা বাপ্পি হোসেনকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় তার কাছে থাকা ১০২ ভরি ১২ আনা ওজনের ১০টি স্বর্ণের বার এবং একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে তাকে আহত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় এবং জেলা ডিবি পুলিশের তত্ত্বাবধানে এসআই জাহাঙ্গীর কবীর ও এসআই ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত একটি দল পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানার তরীনয়হাট এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আলমগীরের বসতবাড়ি তল্লাশি করে স্বর্ণ বিক্রির নগদ ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর আসামিদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম (২৬) এবং আসাদুজ্জামান শাহিদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকার সাদিকুল ইসলামের বাড়ি থেকে স্বর্ণ বিক্রির আরো ১৮ লাখ টাকা এবং পাঁচবিবি থানার বড়মানিক গ্রামে আসামি আসাদুজ্জামান শাহিদের গরুর ফার্মের অফিস কক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ বিক্রির মোট ৮৮ লাখ টাকা জব্দ করেছে পুলিশ।

শাপলা জুয়েলার্সের মালিক খাইরুল ইসলাম জানান, পূজা উপলক্ষে মালের অর্ডার একটু বেশি থাকায় ১০২ ভরি ১২ আনা সোনা (যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ১৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা) জয়পুরহাট মডার্ন জুয়েলার্সে পাঠানো হচ্ছিল। পথিমধ্যে বাস গাড়িতে থাকা অবস্থায় ৪-৫ জন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে তা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার হলেও বাকি সোনা ও টাকা উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, গত ২৬ ও ২৮ তারিখের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট থেকে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে আলমগীরের কাছ থেকে ২৯ লাখ, সাদিকুলের কাছ থেকে ১৮ লাখ এবং আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে ৪১ লাখ এই মোট ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। লুণ্ঠিত বাকি সোনা ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, তিন আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ ১০টি এবং রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সোনা ও টাকার উৎস এবং এর নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থী বিনিময় থেকে মহাকাশ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার নতুন অংশীদারিত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


শিক্ষার্থী বিনিময় থেকে মহাকাশ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার নতুন অংশীদারিত্ব

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই সপ্তাহে মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠিতব্য একটি শীর্ষ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বিস্তৃত নতুন অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাবিত বিশ্বব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে।

ব্রাসেলস থেকে এএফপি জানায়, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে সহযোগিতা চালিয়ে আসা ব্রাসেলস ও অটোয়া এবার আরও কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পর্ককে গভীর করতে চায়।

সম্মেলনে আলোচনার টেবিলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:

সহযোগী সদস্যপদ

গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন কানাডাকে ২৭ সদস্যের ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছিলেন।

এ প্রস্তাবটি কিছুটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করে, কারণ ইইউর চুক্তিগুলোতে ‘সহযোগী সদস্য’ নামে কোনো মর্যাদার অস্তিত্ব নেই। এর অর্থ ও পরিধি যথাযথভাবে নির্ধারণের আগে এ শব্দ ব্যবহার না করার পক্ষে ইইউর কয়েকটি সদস্যদেশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইইউর এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, বিষয়টি জোটটির জন্য ‘সম্পূর্ণ নতুন ক্ষেত্র’। তবে তাঁর মতে, সদস্যপদ না দিয়েও কানাডার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উচ্চাকাক্সক্ষারই প্রতিফলন এ ধারণা।

এ ধরনের অংশীদারিত্বের আওতায় জলবায়ু, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে নীতিগত সমন্বয়, ইইউর কিছু কর্মসূচিতে কানাডার অংশগ্রহণ এবং একটি অভিন্ন শাসন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয় থাকতে পারে।

ইইউর আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ববিষয়ক কমিশনার জোজেফ সিকেলা গত সপ্তাহে ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে জানান, প্রস্তাবিত শাসন কাঠামোটি কানাডাকে সম্প্রতি ইইউর শীর্ষ সম্মেলন ও মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া আমন্ত্রণের ভিত্তিতে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।

ইইউর কয়েকজন আইনপ্রণেতা নিয়মিত মতবিনিময়ের জন্য একটি আন্তঃসংসদীয় সংস্থা গঠনের পক্ষেও মত দিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ

কানাডায় প্রচুর বিরল মৃত্তিকা উপাদান ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে, যা ব্যাটারি ও বায়ুকলসহ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি তৈরিতে প্রয়োজন। বর্তমানে ইউরোপ এসব খনিজের বড় অংশ চীন থেকে সংগ্রহ করে।

তবে কানাডায় খনিজ উত্তোলন খাত এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় বিকশিত হয়নি। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের গবেষক নোয়া গর্ডন বলেন, বেইজিং-প্রভাবিত বাজারে প্রবেশের আগে খনি পরিচালনাকারীরা বিনিয়োগ এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি চাইছেন।

সম্মেলনের মাধ্যমে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টিতে একটি চুক্তি হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইইউ কর্মকর্তা জানান, দুই পক্ষ যৌথভাবে খনিজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের মজুত গড়ে তোলার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং চাহিদা পূরণে সহায়তার জন্য এসব উপকরণ সংরক্ষণ করা হবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মহাকাশ

মন্ট্রিয়ল সম্মেলনে দ্রুততর ও কম খরচে অনলাইন লেনদেনের সুযোগ বাড়াতে একটি ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে।

সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা যৌথ বিবৃতির একটি প্রাথমিক খসড়া এএফপির হাতে এসেছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো ও এআই-সংক্রান্ত বিধিবিধানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনার কথাও রয়েছে।

সম্মেলনে ইইউর গ্যালিলিও কর্মসূচি এবং আইআরআইএসক্ষ্ম প্রকল্পে কানাডার অংশগ্রহণের পথ তৈরি করতে কাজ শুরুর কথা রয়েছে।

গ্যালিলিও হলো একটি বৈশ্বিক নেভিগেশন স্যাটেলাইট ব্যবস্থা, যা যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) বিকল্প হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, আইআরআইএসক্ষ্ম প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের বিকল্প হিসেবে ইউরোপের নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সম্প্রতি ইইউ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে। এ ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে যোগাযোগ সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, ‘আমাদের নিজেদের প্রযুক্তি ও সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে এবং নিজেদের প্রয়োজনের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।’

জনগণের মধ্যে যোগাযোগ

কানাডাকে ইইউর জনপ্রিয় ‘ইরাসমাস’ যুব বিনিময় কর্মসূচিতে যুক্ত করার বিষয়েও অটোয়া ও ব্রাসেলসের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদেশে এক সেমিস্টারসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।

যৌথ বিবৃতির খসড়ায় শ্রমিকদের চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও রয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চলাচলে বাধা কমানো এবং পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জার্মানির মধ্য-বামপন্থী ইইউ আইনপ্রণেতা টোবিয়াস ক্রেমার বলেন, ‘চুক্তি ও প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ইইউ-কানাডা জোটের প্রকৃত ভিত্তি হলো মানুষে-মানুষে যোগাযোগ।’

ইউক্রেনসহ অন্যান্য সহযোগিতা

ইউক্রেনের বাজেট ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দিতে কানাডাকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে ইইউ। একই সঙ্গে কানাডাকে ইউরোপের গবেষণা অর্থায়নের প্রধান কর্মসূচি ‘হরাইজন ইউরোপ’-এ যুক্ত করার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইইউর ওই কর্মকর্তা বলেন, কানাডার গবেষকদের জন্য ইউরোপের সুপারকম্পিউটিং অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে জোটটি।

জ্বালানি খাতেও সম্পর্ক জোরদার করতে চায় দুই পক্ষ। যৌথ বিবৃতির খসড়ায় কানাডা থেকে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে কানাডার প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ডের তৈরি ৫০টি অগ্নিনির্বাপক উড়োজাহাজ যৌথভাবে কেনার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সম্মেলনের প্রাথমিক খসড়ায় এ প্রস্তাবও ছিল।

ইইউর সংকট ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কমিশনার হাজা লাহবিব এএফপিকে বলেন, জোটটি ২০২৪ সালেই এ ধরনের ২৪টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। সদস্যদেশগুলো ইইউর পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি বাজেট নিয়ে আলোচনা করায় নতুন করে উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ নেই।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিল। তাদের মতে, ইইউর অর্থ কানাডার তৈরি উড়োজাহাজ কেনার পরিবর্তে ইউরোপীয় নির্মাতাদের তৈরি বিকল্প উড়োজাহাজ কেনার কাজে ব্যয় করা উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%