প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন যে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, গাড়ি ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ করছে।
হোয়াইট হাউসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।
এর আওতায় রয়েছে ওয়াইন, হকি স্টিক ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
চলতি বছর ট্রাম্পের কর্তৃক আরোপিত অনেক শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছে।
এবার তিনি নতুন শুল্ক আরোপ করতে ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ নম্বর ধারার একটি আগে ব্যবহৃত না হওয়া আইনি বিধান প্রয়োগ করেছেন।
যাই হোক, নতুন শুল্কের আওতায় জ্বালানি, পটাশ এবং যা আগে থেকেই খাতভিত্তিক শুল্কের আওতায় আছে, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এটি জানা গুরুত্বপূর্ণ যে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতাভুক্ত পণ্যও এবার এই শুল্কের আওতায় আসবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘আরও জোরদার’ করতে অটোয়া প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বিরোধ সমাধান এবং ইউএসএমসিএ আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে কানাডা বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।
কার্নি বার্তা দিয়েছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বাণিজ্য পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা, যা ইউএসএমসিএ লঙ্ঘন করে একের পর এক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘কানাডা তার অধিকার অনুযায়ী কেবল এসব পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিয়েছে।’
ট্রাম্পের এই ঘোষণায় কিছু ব্যবসায়ী মহলে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ফেরার পর ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ওপর বিভিন্ন শুল্ক আরোপ করেছেন।
কিন্তু ইউএসএমসিএ-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী অনেক পণ্যের জন্য এসব শুল্ক থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ পদক্ষেপ ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প কানাডার ওপর আরও শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিয়েছিলেন, যখন কানাডায় দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছিল।
হোয়াইট হাউস এর বিষয় নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৫ সাল থেকে ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের পর কানাডা ও চীন—এই দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার আহ্বানের প্রেক্ষিতে কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল বা মদ কেনা বন্ধ করতে আপত্তি জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের কাছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেছেন যে, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের এলকোহলজাত পণ্য কানাডার বাজার থেকে সরিয়ে নিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বাজার সুবিধা বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনা কোম্পানিগুলোর কানাডায় গাড়ি রপ্তানিতে সীমা আরোপ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কানাডার পাল্টা পদক্ষেপ এবং বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য দেশটিকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্যই এই শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছে।’
লিবার্টারিয়ান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের স্কট লিনসিকোম এএফপিকে বলেছেন, শুল্ক আরোপের জন্য এই প্রথমবারের মতো ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে পরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া অন্যান্য আইনি ক্ষমতার কারণে এই আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।
তাঁর মতে, ট্রাম্প ‘বিদ্যমান যেকোনো আইনি বিধান ব্যবহার এবং এর অপব্যবহারের ইচ্ছা দেখিয়েছেন।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন