০৫:০৯ পি.এম
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হিজবুল্লাহর হামলাকে ইসরায়েল নিজ ভূখণ্ডের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে উপস্থাপন করছে, এই মন্তব্য করেছেন কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের জননীতি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বারাকাত বলেন, লেবাননের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি দেশের সেনাদের হিজবুল্লাহর হামলার ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। পাশাপাশি, এটি ইসরায়েলের আত্মরক্ষার দাবিকে ঘিরে এক ধরনের ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল যা করছে তা হলো- হিজবুল্লাহর হামলাগুলোকে এমনভাবে দেখাচ্ছে যেন এগুলো বাস্তবে ইসরায়েলের ওপর হামলা। কিন্তু দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।”
আরও পড়ুন: ‘ডিসেম্বর মাসে ‘আপা’ আসার সুযোগ নেই, প্রস্তুত ফাঁসির মঞ্চ’
বারাকাত জানান, শুরুতে ইসরায়েলের অভিযোগ ছিল- হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে।
তিনি বলেন, “এখন তারা মূলত সেই ইসরায়েলি সেনাদের উপরে হামলা করছে, যারা তাদের (লেবাননের) ভূমি দখল করে অবস্থান করছে। এই বিষয়টি বহু বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং ইসরায়েলকে লেবাননের ভেতরে বোমা হামলা চালানোর একটি অজুহাত দিয়েছে।”
লেবাননের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আলোচনায় থাকা ‘ডিকনফ্লিকশন’ বা সংঘাত এড়ানোর সমন্বয় ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে, বলেন এই বিশ্লেষক।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃত চ্যালেঞ্জ দেখা দেবে যখন বাস্তুচ্যুত লেবানিজ জনগোষ্ঠী নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে আসবে। কারণ তখন নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং সামরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে বায়ুদূষণে শীর্ষে, আতশবাজিতে পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সামরিক অবস্থান, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব। এই পরিস্থিতিতে যেকোনও স্থায়ী সমাধানের জন্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উভয় দিকেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন