ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত চরমে: সমঝোতা বাতিল নিয়ে কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটন


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত চরমে: সমঝোতা বাতিল নিয়ে কঠোর অবস্থানে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই প্রেক্ষাপটে চলমান সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা বাতিলের সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে, এমন ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের আঙ্কারায় ৫৩ ঘণ্টার সফর করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফর শেষে, প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে, তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে এসেছেন। বুধবার সকালের সময় মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব বেশি কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি এখন ‘শেষ’ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হল, চলমান এই সংঘাতের মধ্যেও আলোচনা চলতে পারে এবং তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সাংবাদিক মাইক হান্না জানিয়েছেন, এটা মনে রাখা দরকার যে, এই সংঘাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একচেটিয়া ক্ষমতা কমানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন খোদ রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্য। তাই চলমান এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বাধা রয়েছে। এখন যেহেতু আর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, তাই ট্রাম্পের জন্য কংগ্রেস এবং মার্কিন জনগণকে বোঝানো বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ, তিনি শুরুতে বলেছিলেন যে এই যুদ্ধ মাত্র তিন থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হবে।

তাছাড়া, সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান হামলার ধরন ও পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প যেন দ্রুত নিজের বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ শেষ বলতে পারেন, সেজন্যই তড়িঘড়ি করে এই চুক্তিটি সাজানো হয়েছিল। তাই এই চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে যে সংঘাত হবে, তা একরকম নিশ্চিতই ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দ্বন্দ্ব অবধারিত ছিল। আর এই হরমুজ প্রণালিই এখন নতুন করে সংঘাত বাড়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করবে: মাহ্‌দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২৯ পি.এম


বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সবকিছু করবে: মাহ্‌দী আমিন

বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিলে তিনি একথা বলেন।

মাহ্‌দী আমিন বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করবো। ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন এবং জানান, সরকারের মূলনীতি হলো আমলাতন্ত্র এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের একটি উন্নত নীতি কাঠামোর মাধ্যমে ব্যবসা করার খরচ কমানো, যার ফলে ব্যবসা করার সহজতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস তথা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ কিছু দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে। তবে এসব লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করতে বেসরকারি খাতের ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন বলে মাহ্‌দী আমিন উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা সামনে কিছু লক্ষ্য স্থির করে বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি খাত-চালিত দেশ হিসেবে এগিয়ে যাক। কিন্তু কোনো সরকারই একা এটা করতে পারে না। ঐতিহাসিকভাবে আমরা দেখেছি, শীর্ষস্থানীয় বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প রয়েছে। আমরা চাই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের হাত ধরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই ধারা বেসরকারি খাত থেকে সরকারি খাতে স্থানান্তরিত হোক এবং সরকার হিসেবে আমরা তা আনন্দের সাথে গ্রহণ করবো।

মাহ্‌দী আমিন বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতিমালার কথা উল্লেখ করে জানান, প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম বাজেটের মাধ্যমে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপকল্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। যেখানে নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্যের দৈনন্দিন খরচ ও দ্রব্যমূল্য কমানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি খাতের নীতিমালার সাথে সংগতি রেখে, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন।

বার্ষিক কাউন্সিলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-আইসিসিসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে নতুন হামলাই কি ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র পরাশক্তির কবর রচনা করবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ পি.এম


ইরানে নতুন হামলাই কি ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র পরাশক্তির কবর রচনা করবে?

মধ্যপ্রাচ্য আবারও অগ্নিগর্ভ। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন সামরিক পদক্ষেপ শুধু একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার প্রশ্ন নয়; এটি বিশ্ব রাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক আইন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন করে এক গভীর অনিশ্চয়তার সূচনা করেছে।

এমন এক সময়ে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল, যখন ইরানের বিরুদ্ধে এর আগে আধিপত্যবাদী মার্কিন ইজরাইলি অবৈধ আগ্রাসনের ৪০ দিনের যুদ্ধের ক্ষত এখনও শুকায়নি এবং পুরো ইরানি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক অভিভাবক আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়ে শোকে বিহ্ববল এবং ক্ষোভে ফুসছিল এবং তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাকে হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হচ্ছিল,, ঠিক তখনই ৪০ দিনের যুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে উদগ্রীব থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত ইসরাইল কিংবা ইহুদী লবি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বা প্রভাবিত হয়ে সেই চুক্তি লংঘন করে পুনরায় যখন ইরানে আগ্রাসন চালানো শুরু করেছে তখনই হয়তো এটি নির্ধারিত হয়ে গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলয়ের আধিপত্যবাদী পশ্চিমা শক্তির কবর রচনা হতে যাচ্ছে।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক হুমকির মুখে থাকার পরেও দীর্ঘ ৪০ দিনের যুদ্ধে বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার এর বিরুদ্ধে এবং তাদের পোষা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ইসরাইল এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদেরকে পিছু হটতে বাধ্য করে ঠিক তখনই ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের যুদ্ধে হেরে যাওয়ার লজ্জা ঢাকতে যুদ্ধ বিরোধী চুক্তিতে যেতে উদগ্রী হয়ে পড়েছিল। কিন্তু খুব সম্ভবত ইহুদী লবি বা ইজরাইলের আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়ে পুনরায় সেই একই ভুল পথে পা বাড়িয়ে ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। এর পরিণতি কি হবে তার সময় বলবে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতাকে পাল্টে দিয়েছে এটা এখন নিশ্চিত করে বলা যায়। ইরান এখন আর কেবল নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত একটি দুর্বল বিশৃংখল রাষ্ট্র নয়; এটি এমন একটি আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যার হাতে আছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, ভয়ংকর ড্রোন সক্ষমতা, স্বল্প, দূরপাল্লা এবং মাঝারিপাল্লার ভয়ংকর ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার এবং খুব সম্ভবত পরমাণু অস্ত্রেও ইতিমধ্যে সজ্জিত হয়েছে, এছাড়াও তার বিস্তৃত আঞ্চলিক মিত্র নেটওয়ার্ক এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট—হরমুজ প্রণালীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এমনকি দুর্দিনে বাব আল মান্দেব প্রণালীর উপরেও রয়েছে কৌশলগত প্রভাব।

যুদ্ধবিরতির এই স্বল্প সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো যারা ইহুদীবাদী ও পশ্চিমা শক্তির দালাল হিসেবে পরিচিত, নিজেদের স্থাপনা, ঘাঁটি এবং সবকিছু দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা শক্তিকে সহায়তা করেছে এমন রাষ্ট্রগুলো ইরানের সাথে তাদের সম্পর্ক পুনর্মমূল্যায়ন করে মধ্যপ্রাচ্যকে স্থিতিশীল করতে পারত। তা না করে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার কারণে এসব রাষ্ট্রও এখন সম্ভাব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রশক্তি হিসেবে ইরানের শত্রু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ধ্বংসের তালিকায় নাম লিখিয়েছে।

হরমুজ প্রণালীকে বলা হয় বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রাণভোমরা। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ তথা এক পঞ্চমাংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করে। এই রুটে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মুহূর্তেই বাড়িয়ে দিতে পারে যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে এবং, যা সরাসরি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, শিল্প উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণ সংকট এবং ধীরগতির প্রবৃদ্ধির চাপে রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে। জ্বালানির দাম বাড়লে ইউরোপ, এশিয়া এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইতিহাস বলছে, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট বহু দেশে সরকার পরিবর্তন, গণবিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে মূল্য স্ফীতির কারণে উক্ত রাষ্ট্রের গণবিক্ষোভ, বিদ্রোহ এবং এগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন সরকার গুলোর পতন ঘটাতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে এইসব রাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল তথা বিশ্বের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বিস্তারকারী রাষ্ট্রটিকে আর মূল্যায়ন আগের মতো নাও করতে পারে। ইতিমধ্যে তেমন রাষ্ট্রগুলো বিকল্প হিসেবে চীন, রাশিয়া, ইরানের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের আধিপত্য অর্ধেক হারিয়ে ফেলেছে এমন কথা খুব বেশি বলা হবে না।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বৈশ্বিক জনমত। বিশ্বের অনেক দেশ ক্রমেই বড় শক্তিগুলোর একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যদি আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো, জাতিসংঘের প্রক্রিয়া বা কূটনৈতিক সমাধানের পথকে দুর্বল করে, তাহলে তা বৈশ্বিক ব্যবস্থায় আস্থার সংকট সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো মনে করে এমন আধিপত্যবাদী শক্তি যেকোনো সময় তাদের নিজ দেশে হামলে পড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভক্তি আরও গভীর হয় এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়।

ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের প্রশ্নটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। গত কয়েক বছরে দেশটি তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, ড্রোন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় ইরানকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে কোনো সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। বরং তা দ্রুত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি এতে ভুল করেও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো কিংবা ন্যাটো ভুক্ত কোন দেশ সামান্যতম ভুল করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের স্বার্থের পক্ষে জড়িয়ে যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে স্বার্থ থাকা রাশিয়া ও চীন সহ উত্তর কোরিয়া ও তাদের বলয়ের শক্তিগুলো আর গোপন থেকে লড়াই না করে প্রকাশ্য মাঠে নামতে পারে যা বিশ্বে এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলার যুদ্ধ শুরু করতে পারে এমন আশঙ্কা করাও অমূলক নয়।


এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বহিরাগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল, তাদের জন্যও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোনো আঞ্চলিক সংঘাত যদি বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নেয়, তাহলে সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অর্থাৎ, আজকের সংঘাতে যে পক্ষ নিজেকে নিরাপদ মনে করছে, আগামীকাল সেই পক্ষও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।

বিশ্বব্যবস্থা এখন এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একক আধিপত্যের যুগ থেকে পৃথিবী ধীরে ধীরে বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ কেবল সামরিক সংঘর্ষ নয়; এটি আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পরীক্ষা।

অতএব, ইরানে নতুন হামলা কিংবা পাল্টা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ কোনো পক্ষের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। যুদ্ধের আগুন সীমান্ত মানে না; এর শিখা জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে সমানভাবে গ্রাস করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধু একটি আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং এমন এক বৈশ্বিক সংকেত—যেখানে ভুল হিসাব-নিকাশের মূল্য পুরো পৃথিবীকেই দিতে হতে পারে যেখানে এই ভুলের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হারাতে পারে তার আধিপত্য, ইজরাইল হারাতে পারে তার দীর্ঘদিনের বসতভিটা, ধ্বংস হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মুসলিম রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতার ভিত্তি। আর হরমুজ প্রণালী কিংবা ইরানকে ঘিরে এসব ঘটনা ঘটলে তার মাধ্যমে বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের কবর রচনা হতে পারে - এমন আশঙ্কা করাও বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিটিবিতে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪২ পি.এম


এনসিটিবিতে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ-সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) আজ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত বিষয়ে দেশের বিভিন্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের (প্রেস) মালিকদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা।

মতবিনিময় সভায় প্রেস মালিকরা পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং উত্থাপিত বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সভায় পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সরকার, এনসিটিবি এবং মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে এনসিটিবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬'-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ পি.এম


‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬'-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে মন্ত্রিসভা।

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রমগুলো সমন্বিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উত্থাপিত এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াগুলোকে আরও সুগম, দ্রুত এবং সমন্বিত করা হবে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যের সঙ্গে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

সরকারের অভিমত, নতুন আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান নীতিগত অসামঞ্জস্যতা হ্রাস পাবে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের দ্বৈততা দূর হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে।

আইনটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলসহ ঘোষিত শিল্পাঞ্চলকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনেছে, লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদানের পদ্ধতি এবং সময়সীমা নির্ধারণ, ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে সহজ অনুমোদনের ব্যবস্থা এবং অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা, শেয়ার ও স্বত্ব উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করার সুযোগ।

এছাড়া বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন জ্বালানি কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে নতুন আমদানি নীতি আদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ, অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%