প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল শহর। ঢাকায় বর্তমানে ৪ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। এ কারণে ঢাকার রাস্তাগুলিতে সাধারণত ট্রাফিক সিগন্যাল পাওয়া যায়। লাল আলো জ্বললে গাড়ি থামে এবং সবুজ আলো জ্বললে গাড়ি চলতে শুরু করে। ব্যস্ত শহরের রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে তাই ট্রাফিক লাইটের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু এমন একটি দেশও রয়েছে, যেখানে কোনোরূপ ট্রাফিক সিগন্যাল নেই। তাও সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিকভাবে চলে। সেই দেশটি হল ভুটান। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই ছোট্ট দেশটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং ভিন্ন জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত।
ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে টাফিক লাইটের কোনো অস্তিত্ব নেই। এখানে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায়। থিম্পুর ব্যস্ত রাস্তাগুলিতে নির্দিষ্ট স্থানে তারা দাঁড়িয়ে থাকার মাধ্যমে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ বিশেষ ভঙ্গিতে হাত নেড়ে চালকদের নির্দেশ দেন।
কখন গাড়ি থামাতে হবে, কখন রাস্তা ছাড়তে হবে বা কখন একপাশে এগিয়ে যেতে হবে- সবকিছুই পুলিশকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করেন। স্থানীয়রা এই নিয়ম পালন করে। একসময় ভুটানে ট্রাফিক সিগন্যাল বসানোর পরিকল্পনা ছিল, তবে সাধারণ জনগণ এই ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। তাদের মতামত ছিল, যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার চেয়ে মানুষের উপস্থিতিতে ট্রাফিক পরিচালনা অনেক বেশি স্বাভাবিক ও সুবিধাজনক। তাই পুরনো ট্রাফিক পুলিশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটি আবার ফিরিয়ে আনা হয়।
ভুটানে ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকার আরেকটি কারণ হলো, দেশের জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বড় বড় শহরের তুলনায় এখানে রাস্তায় অতিরিক্ত যানজটের সৃষ্টি হয় না। এ ছাড়া, ভুটানের নাগরিকরা সাধারণত ট্রাফিক আইন মানেন এবং রাস্তায় ধৈর্যশীল হয়ে যান চলাচল করেন। এ কারণেই ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়ে ওঠে।
পর্যটকদের জন্য ভুটানের এই স্বতন্ত্র ব্যবস্থা একটি আকর্ষণ। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা থিম্পুর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশদের দেখে বিস্মিত হন। কারণ আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন পৃথিবীর প্রায় সব দেশে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহৃত হয়, ঠিক তখনই ভুটান মানবিক পদ্ধতির উপর গুরুত্ব দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন