প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের কারণে নদীর তীর থেকে পাহাড়ের দিকে দৌড়াচ্ছেন মানুষ। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই তাদের স্বজনদের পানির স্রোতে ভেসে যেতে দেখেছেন। সেই ভীতিকর মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রবল বেগে নদীর পানি স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসছে। আতঙ্কিত মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করেন। দলে ছিলেন শিশু, তরুণ-তরুণী এবং বয়স্করাও।
পানির স্রোত দ্রুত এগিয়ে আসায় অনেকেই নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকজনকে স্রোতে ভেসে যেতে দেখা যায়। কাছের মানুষদের চোখের সামনে ভেসে যেতে দেখে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে প্রাণ বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত অন্যদেরও পাহাড়ের দিকে ছুটতে দেখা যায়।
নেপালে বুধবার সকালে এই ভয়াবহ হড়পা বান আঘাত হানে। চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসস্তূপ নেমে আসার ফলে ভয়াবহ এই বন্যার সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৬৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া দুর্যোগের পর থেকে নেপাল ও চীনের তিব্বত মিলিয়ে অন্তত দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ও পুণ্যার্থী রয়েছেন।
হড়পা বানে নেপাল ও তিব্বতের হিমালয়-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও অন্যান্য স্থাপনা পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা নিশ্চিহ্ন হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীর পাশের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাচ্ছেন মানুষ। একটি বাড়ির উঠানে এক তরুণীকে বসে কাঁদতে দেখা যায়। তাঁর সামনে দিয়ে ভয়াবহ স্রোতে পানি বয়ে যেতে দেখা যায়।
’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষ তা দেখেছেন। অনেকেই নেপালের দুর্গত মানুষ ও নিখোঁজ পর্যটকদের জন্য প্রার্থনা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন