প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদ সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে মসজিদটি নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
বার্তা সংস্থা সানা জানায়, গত বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব মন্তব্য করেন, উমাইয়া আমল থেকে এই মসজিদটি আলেপ্পোর ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।
আল-গারিব আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ের কঠিন পরিস্থিতি ও ধ্বংসযজ্ঞের পর আমরা আলেপ্পোকে তার ঐতিহাসিক মসজিদটি ফিরিয়ে দিচ্ছি। এই মসজিদটি বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থল এবং স্বাধীনতা ও মর্যাদার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও কাজ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ আলেপ্পো এবং এর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে কাজ করেছে। তারা মসজিদটিকে আরও ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছে এবং এটিকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলেছে।
আল-গারিব জানান, সংস্কার কাজের সময় মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধাগুলো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে, যাতে এর কক্ষগুলোতে আবারও আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে পারে।
সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আল-রিফাই জানান, আলেপ্পোর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে মুসলিমদের হৃদয়ে শহরটির একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি বলেন, মসজিদটি তার হারানো জৌলুস ফিরে পেয়েছে এবং ধর্মীয় ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আবু আল-খায়ের শুকরি আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদকে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের সমতুল্য হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই মসজিদটি জ্ঞানচর্চা ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের ধারক।
শুকরি বলেন, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চেয়ে মানুষের পুনর্গঠন বা উন্নয়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষই সভ্যতা, অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, সিরিয়ার জনগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত সবকিছু পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশো বলেন, মসজিদটি পুনরায় খুলে দেওয়ার অর্থ হলো এই ঐতিহাসিক মসজিদে প্রাণের সঞ্চার হওয়া। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর টিকে থাকার ও ঘুরে দাঁড়ানোর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে।
আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদটি শহরের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি শহরের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্কার ও পুনর্বাসন কাজের পর এর পুনরায় খুলে দেওয়া আলেপ্পোর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে মসজিদটির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন