প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে, যার ফলে ইউরোপ শীত মৌসুমে রেকর্ড কম গ্যাস মজুত নিয়ে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে মহাদেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বার্লিনে বুধবার অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্নের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে ইউরোপের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তিনি উল্লেখ করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরে এলেও আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে পারে।
বিরল আরও বলেন, শীতের আগে ইউরোপের দেশগুলোতে সাধারণত পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত থাকে। কিন্তু এবারের শীত মৌসুমে গ্যাসের মজুত ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। শীত তীব্র হলে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, চলতি বছর এবং আগামী বছর ইউরোপের মানুষের জন্য সহজ হবে না।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে প্রায় ৭২ শতাংশ পূর্ণ। সাধারণত এই সময়ে মজুত থাকে প্রায় ৯০ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাটতি ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ বাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সমপরিমাণ। এ অবস্থায় গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন ইইউর জ্বালানিমন্ত্রীরা।
ফাতিহ বিরল বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে কী করা হবে, তা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থায় নতুন নিয়োগপ্রার্থীদেরও প্রায়ই প্রশ্ন করতেন, প্রণালিটি আজই বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা কী পদক্ষেপ নেবেন।
তার মতে, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিরল বলেন, এসব পদক্ষেপ আগে নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু এখন সরকারগুলো তাড়াহুড়ো করে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনাও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে উল্লেখ করেন আইইএ প্রধান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংঘাতের প্রভাব আগামী কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনুভূত হবে।
বিরল আরও বলেন, ইউরোপে শুধু গ্যাস নয়, ডিজেল সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। রাশিয়ার শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ কমেছে। পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ডিজেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় এ ঘাটতি ইউরোপের অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করতে পারে।
আইইএ দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। বিরলের মতে, জ্বালানি সরবরাহের উৎস ও পরিবহনপথে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ আগেই নেওয়া হলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সহজ হতো। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন