প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানে মার্কিন হামলার নতুন ঘটনার পাশাপাশি ইসরায়েলের হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬ দশমিক ২২ শতাংশ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ফিউচারস ৭৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯১ দশমিক ৭৯ শতাংশ ডলারে দাঁড়িয়েছে। টানা চতুর্থ দিনের মতো উভয় ধরনের তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দিনের শুরুতে এগুলোর দাম গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে মার্কিন হামলায় ১৮ জন নিহত এবং ১০৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির উপকূলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে চারজন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় ইরানের সেনাবাহিনীর তিনজন পাইলট নিহত হয়েছেন।
জুলাই মাসের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে বড় গোলাগুলির ঘটনা। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বর্তমানে সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আবারও সতর্ক করেছেন যে, তেহরান হামলা চালালে ইসরায়েল দেশটির সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো এবং জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে অচল করে দেবে। স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেছেন, কাটজের মন্তব্যের পর তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রাথমিক জাহাজ চলাচল তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের ১১টির তুলনায় কম এবং গত ১০ দিনের গড় প্রায় ১৩টির তুলনায় অনেক কম। ইউবিএস-এর জ্বালানি বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেছেন, তেলের বাজার সংকুচিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত কমার ফলে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও এই পরিস্থিতিতে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।
এদিকে, ইরান সেইসব জাহাজের তালিকায় আরও কিছু জাহাজ যুক্ত করেছে যেগুলোকে তারা নিয়ম লঙ্ঘনকারী হিসেবে মনে করে এবং প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জরিমানা, বাজেয়াপ্ত বা আটক করা হবে বলে জানিয়েছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে ইরাকি জাহাজগুলোতে অনুমতি দিয়েছে।
বুধবার দুজন ইরাকি জ্বালানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরাক আগস্টে তার তেল রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক প্রায় ২.৩৪ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত করেছে, যা জুলাই মাসে ছিল প্রায় ১.৩৫ মিলিয়ন ব্যারেল। সেপ্টেম্বরেও রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ বড় ছাড় এবং ইরাকি ট্যাংকারগুলোর জন্য ইরানের অনুমোদন ক্রেতাদের উৎসাহিত করেছে। তেলের উচ্চ মূল্য এবং এর ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব এই মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর বাজি বাড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন