প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কেপটাউনে অনুষ্ঠিত ৬৯তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বে সংসদীয় প্রতিনিধিদল কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) মহাসচিব স্টিফেন টুইগের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
এই বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের শক্তিশালীকরণ, সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশ ও সিপিএর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্টিফেন টুইগ বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিষ্ঠান এবং সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে চার দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ সেমিনার আয়োজন করা হবে। তিনি সেখানে ব্যক্তিগতভাবে যোগদান করবেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে বিরোধীদলীয় ও নারী সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির জন্য স্টিফেন টুইগ ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদীয় চর্চার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং সংসদে নারীর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে সিপিএর কার্যক্রম তুলে ধরেন স্টিফেন টুইগ। তিনি কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানসের (সিডব্লিউপি) বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সিপিএ মহাসচিব বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের ‘সিপিএ পার্লামেন্টারি একাডেমি’র অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন। এসব প্রশিক্ষণ সংসদীয় কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে স্টিফেন টুইগ রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘসূত্রতা ও তাদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসায় তিনি বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করায় তিনি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও মর্যাদারও প্রশংসা করেন সিপিএ মহাসচিব।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিপিএর ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন। সিপিএ এবং সিপিএ যুক্তরাজ্য শাখার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় অগ্রযাত্রায় ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্য সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন