প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থ ও অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিয়ে বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল তৈরি করা প্রয়োজন।
তিনি রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পোর্ট ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা উচিত ছিল। এই কৌশলটি জাতির বৃহত্তর স্বার্থ ও অগ্রগতির দিকে নজর রেখে তৈরি করতে হবে। সরকারি কাজে নিয়োজিতদের মধ্যে কর্তৃত্ববোধ রয়েছে, যা আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা এ কাজে যুক্ত রয়েছে, তাই সমন্বয়ের অভাব জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের বন্দরের ব্যবসাবান্ধব করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, এবং সমন্বিত প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যকে স্থায়ী অর্থনৈতিক কাঠামোয় নিয়ে আসা এবং বন্দর সংশ্লিষ্টদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য সঠিক পোর্ট স্টাডি বা পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অবকাঠামোগত সমস্যা ছাড়াও নতুন কিছু বা পরিবর্তনের সঙ্গে পরিচিত হতে হলে সমাজের কিছু অংশ অস্বস্তিতে ভোগে এবং পেছনের দিকে সরে যেতে চায়।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সব সমস্যাকে একটি সমন্বিত সমাধানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে বন্দর কেন্দ্রিক কাজ করলে শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বের শীর্ষ ৫টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ৮০ শতাংশ কন্টেইনার টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা করে, এর মধ্যে তিনটি আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি শুভক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে। জাপান দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু, তারা রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ ছাড়াই বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে।
জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাশাহী জুনকো বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, তখন বৈশ্বিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং বিশ্ব সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য দক্ষ বন্দর ও লজিস্টিকস সিস্টেম অপরিহার্য। জাতীয় বন্দর কৌশল দেশের বন্দর খাতের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও ব্যাপক কাঠামো তৈরি করে, যা সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর এবং স্থলবন্দর সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত করে।
তিনি আরও জানান, জাইকার টেকনিক্যাল কো-অপারেশন প্রজেক্ট এবং মাতারবাড়ি বন্দরের অপারেশন, মেইনটেন্যান্স ও ম্যানেজমেন্টের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় এটি তৈরি হয়েছে। এতে জাইকা এক্সপার্ট টিম এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ছিল। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কার্গো বা পণ্যের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চাহিদা মেটাতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, বরং দক্ষ অপারেটর, কৌশলগত কানেক্টিভিটি, অধিকতর ডিজিটালাইজেশন এবং বন্দর, সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন