প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাইজেরিয়ায় আটক অবস্থায় ৩৭ জন ক্ষুদ্র খনি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন এবং গ্রেপ্তারের সময় জব্দ করা জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার জন্যও আহ্বান করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণই তাদের স্বজন হারানোর কষ্ট দূর করতে সক্ষম হবে না।
মঙ্গলবার, দেশটির প্রেসিডেন্ট কর্তৃক গঠিত একটি তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, গত মাসে নাইজার রাজ্যে নিরাপত্তা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই ৩৭ জনের মৃত্যু ঘটে। তাদের অবৈধভাবে খনির কাজ করার সন্দেহে আটক করা হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আটককেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়, প্রচণ্ড গরম, পানির অভাব এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নাইজেরিয়া সরকার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুনমি তুনজি-ওজো জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো হয়েছে যাতে দ্রুত বিচার শুরু করার ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ কবে পাবেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো উত্তর দেননি। নিহতদের মধ্যে কিশোরও ছিল, এবং তাদের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আটককেন্দ্রের পরিবেশ এবং বিচার শুরুর অপেক্ষায় থাকা বন্দীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের একজনের মা জয়নব সালিহু বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, আমাদের সন্তানেরা বেঁচে থাকুক এবং আমাদের কাছে ফিরে আসুক।’ তিনি জানান, তার ছেলের মৃত্যুর পর তার স্বামীর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে এবং পরে স্বামীও মারা যান। তবে স্বামীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।
জয়নব সালিহু আরও বলেন, ‘তারা আমাদের যত টাকাই দিক না কেন, তাতে আমাদের সন্তানদের আর ফিরে পাব না।’ আটক অবস্থায় মারা যাওয়া ২৫ বছর বয়সী সুলাইমানের বাবা দান্তালা তানকোও ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। ছেলের কবরের পাশে দোয়া করার পর তিনি বলেন, ‘এখন সে আর নেই। এটা আমার জন্য ভীষণ কষ্টের। আমি জানি, সে আর কখনো ফিরে আসবে না।’
আটককেন্দ্র থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ২৫ বছর বয়সী দাউদা শেহু বলেছেন, ‘যেসব কর্মকর্তা মানুষের জীবনের প্রতি এমন অবহেলা দেখান, তাদের ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।’
২৩ বছর বয়সী আবদুসসালাম ইয়াকুব অভিযোগ করেছেন, সরকার ব্যবস্থা নিতে দেরি করছে। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে মোটরসাইকেল, মুঠোফোন, খনির কাজে ব্যবহারের সরঞ্জাম এবং সোনা জব্দ করা হয়েছিল। এসব জিনিস ফেরত পাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
ইয়াকুব রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট সহ্য করেছি। আমরা বিচার চাই, প্রতিশ্রুত সহায়তা চাই এবং আমাদের জিনিসপত্র ফেরত চাই। তাহলে আমরা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন