প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুম শুরুর পূর্বেই বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রায় ১২০০ মাছ ধরার ট্রলার একযোগে সেখানে চলে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসব ট্রলার দুবলার চরের দিকে রওনা দেয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হয়েছিল যে, অনুমতি ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ করা যাবে না। এই ঘটনায় বন বিভাগের নজরদারি এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস বলেন, গত রাত থেকে চিলা বাজার ও জয়মনিঘোল এলাকায় কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছিল। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জেলেদের সুন্দরবনে প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে প্রায় ১২০০ ট্রলার একযোগে যাত্রা করে দুবলার চরে চলে গেছে; জেলেরা বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা মানেননি।
বনবিভাগের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ মাসব্যাপী শুঁটকি মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। এই মৌসুম চলবে আগামী বছরের মার্চের শেষ পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী, বন বিভাগের পাস-পারমিট নিয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জেলেদের যাওয়ার কথা থাকলেও মৌসুম শুরুর আগে বিপুলসংখ্যক ট্রলারের যাত্রায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রতি বছর শুঁটকি মৌসুমে দুবলার চরের আলোরকোল, অফিসকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে হাজারো জেলে ও মহাজনের সমাগম ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এবারও প্রায় ১০ হাজার জেলে ও মহাজনের সমাগম হবে। জেলেদের থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর, মাছ শুকানোর চাতাল, দোকান ও মাছ কেনাবেচার ডিপো নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে। তবে এসব স্থাপনা নির্মাণের জন্য সুন্দরবনের গাছপালা কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
এদিকে দস্যু আতঙ্ক, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নিয়ে মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছেন জেলেরা। গত মৌসুমে জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ এখনো বিদ্যমান। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলারডুবি এবং বৃষ্টিতে শুকাতে দেওয়া মাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, গত শুঁটকি মৌসুমে বন বিভাগের রাজস্ব আদায় হয়েছিল সাড়ে সাত কোটি টাকা। এবার আট কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের কারণে জেলে-মহাজনদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মৌসুম শুরুর আগে বিপুলসংখ্যক ট্রলারের দুবলার চরে চলে যাওয়ার এই ঘটনায় বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা, অনুমতিপত্র যাচাই এবং সুন্দরবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Ñএমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন