প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত সাড়ে ৬ বছরে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৫ বলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন থেকে তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২০ থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত এইসব দুর্ঘটনায় সড়কে মারা গেছে ১৫ হাজার ৭১২ জন; আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৪৩ জন। নিহতদের মধ্যে একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণ। এবং আহতদের অর্ধেকের বেশির বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে রয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৩৯.৩০ শতাংশই ঘটেছে ভারী যানবাহনের ধাক্কার কারণে। আরো ৩৪.২১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়েছে পণ্যবাহী যানবাহনগুলিকে। অন্যদিকে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতাকেও অন্যতম কারণে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। সংস্থাটি বলছে, চার চাকার অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত ও সহজলভ্য না হওয়া এবং যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে।
এছাড়া রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায় যে, প্রধানত বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা ও আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে মানসম্পন্ন হেলমেট, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
রিপোর্টটিさらに বিশ্লেষণ করে জানায় যে, ২২ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে। ৩৪ শতাংশের বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। আর ৩৯ শতাংশের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা হয়েছে ভারী যানবাহনের ধাক্কায়।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকরা ৩৬ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে এককভাবে দায়ী। পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ৪০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে এবং বাসের চালকদের বেপরোয়া আচরণের কারণে প্রায় ১৩.৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে।
গত সাড়ে ৬ বছরে ঘটে যাওয়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৩০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে। আঞ্চলিক সড়কে ৪২, গ্রামীণ সড়কে ১২ শতাংশ এবং শহরের সাড়ে ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানাচ্ছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল। যার মধ্যে কিশোর-যুবদের অংশ বেশি। কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের ভাষা-ভঙ্গি কিশোর-যুবকদের মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে চালানোর প্রতি আকৃষ্ট করছে এবং গতি বৃদ্ধির জন্য প্রেরণা দিচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণগুলোর মধ্যে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, রাজনৈতিক সহিংসতায় বেপরোয়া চালনার সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতার অভাব, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নজরদারির অভাব, সহজ-সাশ্রয়ী গণপরিবহনের ঘাটতি এবং অসহনীয় যানজট অন্তর্ভুক্ত।
দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য সংস্থাটি সুপারিশ করেছে যে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তি লাগু করতে হবে, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করতে হবে, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি করার কর্মসূচি চালাতে হবে, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপত্তামূলক প্রচারণা চালাতে হবে, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা পরিবর্তন করতে হবে, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে এবং সহজ-সাশ্রয়ী যাত্রীবান্ধব গণপরিবহনকে চালু করতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন