প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে মাদক কারবারি অভিযোগে তিনটি বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম নাগের হাটসংলগ্ন লক্ষ্মী কুড়িবাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি বসতঘরের ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার নাগেরহাট বাজারে মাদকবিরোধী একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে কয়েকজন ব্যক্তি বাজারের পাশে কুড়িবাড়ীতে গিয়ে মানিক লাল কুড়ির দুই ছেলে স্বর্ণকার সোহাগ চন্দ্র কুড়ি ও রুবেল চন্দ্র কুড়ির বসতঘরে ভাঙচুর চালান। এ সময় পাশের বাড়ির হারুন নামের আরেক ব্যক্তির ঘরেও ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহাগ, রুবেল এবং হারুনের ছেলে সুজন মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। সোহাগের চাচা হরি লাল কুড়ি বলেন, ‘মানববন্ধন থেকে লোকজন এসে আমার ভাতিজা রুবেলের ঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে ঘরের এক কোণে আগুনও দেয়। পরে সোহাগের বসতঘরেও হামলা চালানো হয়।
মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ তুলে এ ভাঙচুর করা হয়েছে।’ সোহাগের স্ত্রী অঞ্জলি কুড়ি বলেন, ‘আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করি। আমাদের পরিবার খুবই অসহায়। মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় মাথা গোঁজাব? আমি এ হামলার বিচার চাই।
আমার ঘরে জমি বিক্রির ২ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকাও নিয়ে গেছে।’ সোহাগ চন্দ্র কুড়ি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মনির হোসেনের সঙ্গে আমার আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে তিনি স্থানীয় লোকজনকে উত্তেজিত করে আমাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করিয়েছেন।’
বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে সোহাগ ও রুবেলের বসতঘর ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তাঁরা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
মাদকবিরোধী মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর (পশ্চিম) উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খোকন। হামলা-ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রুবেল ও সোহাগকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি না। তাঁদের নাম শুনেছি, তাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মানববন্ধনে আমি ছিলাম, তবে মিছিল নিয়ে আমি যাইনি। এ কারণে তাঁদের বাড়িতে হামলার বিষয়ে আমার জানা নেই।’
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন