প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আশির দশক ও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় অভিনেত্রী নিশা নূর ছিলেন একটি পরিচিত নাম। তিনি রজনীকান্ত, কমল হাসান, মামুটি এবং মোহনলালের মতো তারকাদের সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করেছেন। একসময় অভিনয় ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করলেও জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি কঠিন সময়ের সম্মুখীন হন। তাঁর জীবনের গল্প আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যেখানে আর্থিক সংকট, নিঃসঙ্গতা এবং অসুস্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
১৯৮০ সালে তামিল সিনেমা ‘মঙ্গলা নায়াগি’র মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন নিশা। এরপর তিনি তামিল, মালয়ালম, তেলেগু এবং কন্নড় ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। ‘টিক টিক টিক’, ‘ইলামাই কোলাম’, ‘ইনিমাই ইধো ইধো’ এবং ‘দেবসুরম’-এর মতো সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের একাধিক জনপ্রিয় তারকার সঙ্গে কাজ করার সুযোগও তিনি পেয়েছিলেন।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অভিনয়ের প্রস্তাবগুলো কমতে থাকে। কাজের সুযোগ হ্রাস পাওয়ায় নিশা আর্থিক সংকটে পড়েন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক চলচ্চিত্র প্রযোজকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ফলে তিনি তার সঞ্চয় হারান। পরে সেই প্রযোজক তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে তাঁর জীবনে আরও কঠিন সময় নেমে আসে।
একসময় যিনি ছিলেন দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, জীবনের শেষ দিকে নিশা চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তামিলনাড়ুর একটি দরগার আশপাশে অসহায় অবস্থায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়। পরে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর এইচআইভি সংক্রমণের বিষয়টি প্রকাশ পায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা চললেও নিশা নূর শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। ২০০৭ সালে, মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। একসময়ের পরিচিত এই অভিনেত্রীর জীবন যেন খ্যাতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা অসহায়তার একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অসুস্থতা নিয়ে প্রচারিত কিছু তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল, তাই সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন