প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরের হোটেল শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: পিএমও
কুয়ালালামপুর. ২১ জুন ২০২৬ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, 'আসুন আমরা সকলে মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সকলে মিলে ভালো থাকতে পারি।' রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরের হোটেল শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, 'প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আজকের আমাদের কী দাবি আছে সেটার বাইরে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি, আমাদের কর্তব্য কী দেশের প্রতি।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আপনাদের প্রতি দেশবাসীর পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ থাকবে। আসুন আজকের দিন থেকে আমরা চিন্তা করি, আমরা কি করতে পারি দেশের জন্য। এটাই হোক আমাদের আজকের চিন্তা, আপনাদের কাছে আমি এই আশা রাখছি।'
গত দেড় দশকে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ দেশ থেকে কেউ একজন, একটা গোষ্ঠী নিতে নিতে দেশটিকে একদম শেষ করে দিয়েছে। দেশটাকে একদম ধ্বংস করেছে। আমরা চেষ্টা করছি, বুকের রক্ত দিয়েছে মানুষ, এ দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তুলি।'
ছবি: পিএমও
রাত সাড়ে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শাংগ্রি লা হোটেলে প্রবেশ করার পর মালয়েশিয়া প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
দেশ গঠনের নিজের চিন্তা ও পরিকল্পনাগুলো প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচিগুলো নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, 'আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদেরকে বলেছি। দোয়া করবেন যাতে এইগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।'
প্রধানমন্ত্রী নিজের পরিকল্পনাগুলো একে একে তুলে ধরেন এবং উপস্থিত প্রবাসীরা মনোযোগ দিয়ে তার বক্তব্য শোনেন এবং চিন্তাভাবনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশের সামনে একটা অত্যন্ত সুন্দর এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে। তবে এখানে একটা বিরাট 'তবে' আছে। তবে হচ্ছে যে, আমাদেরকে এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে, আমাদেরকে এর জন্য কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে, আমাদেরকে এর জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'আমি আসার সময় কুয়ালালামপুর থেকে রাস্তাগুলো অনেক পরিষ্কার লেগেছে আমার কাছে এবং এই পরিষ্কার করার কাজটি কিন্তু আমার দেশের ভাইরাই করছে। আমার দেশের ভাইরা যদি এখানে এত সুন্দর কাজ করতে পারে তাহলে আমরা দেশে কেন পারব না? প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী।'
১/১১ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেখুন বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় এবং পরবর্তীকালে আমার সাথে, আমার মায়ের সাথে, আমার ভাইয়ের সাথে অনেক ঘটনা ঘটেছে যা কল্পনায়ও আনার মতো নয়।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। আমি প্রধানমন্ত্রী, আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অনেক কিছু প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু আমি যদি সেটি করি, তাহলে তাতে উপকার কী হবে, বলুন? কারো উপকার হবে না। তাই এই প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।'
উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা প্রবাসী। অবশ্যই দেশের প্রতি আপনাদের দাবি আছে, পাশাপাশি, দেশের প্রতি আপনাদের কর্তব্যও আছে।'
তিনি বলেন, 'প্রবাসী হিসেবে আপনার যেমন দেশের প্রতি কর্তব্য আছে, দেশি হিসেবে আমাদেরও দেশের প্রতি কর্তব্য আছে। আসুন আমাদের কী দাবি আছে সেটার বাইরে এসে চিন্তা করি, দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে। আমরা দেশ থেকে কী নেবো, এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।'
ছবি: পিএমও
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'আমি আমাদের প্রবাসী ভাইদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে এ দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে কথা বলব। চেষ্টা করব এ দেশের আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চটা আদায় করতে।'
প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন হাই কমিশনার মঞ্জুরুল করীম।
দুই দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে একান্ত বৈঠক করবেন তারেক রহমান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন