প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একসময় যাঁর কণ্ঠে মুখর ছিল শ্রেণিকক্ষ, যাঁর পাঠে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, সেই প্রিয় শিক্ষক প্রবোধ কুমার চাকমাকে বিদায় জানাতে একত্রিত হয়েছিলেন তাঁর বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরে গেলেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক প্রবোধ কুমার চাকমা। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় আবেগ, স্মৃতিচারণ ও ভালোবাসার মিলনমেলায়। সহকর্মীদের শ্রদ্ধা আর শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন দীর্ঘদিনের এই শিক্ষক। তাঁর কর্মজীবনের অবসান ঘটলেও শিক্ষার্থীদের জীবনে রেখে যাওয়া শিক্ষা ও স্মৃতি অমলিন থাকবে—এমন প্রত্যাশা ছিল উপস্থিত সবার।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন প্রবোধ কুমার চাকমা। এরপর প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি এ বিদ্যালয়ে পাঠদান করেন। দীর্ঘ এই সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জীবনের পথচলায় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মাসুদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদ, দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জাহেদুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন শিক্ষক হারুনর রশীদ।
বিদায় সংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীঘিনালার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন হলেও হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রত্যাশিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত প্রবোধ কুমার চাকমা বলেন, দীর্ঘদিন এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। আজ কর্মজীবন থেকে বিদায় নিলেও তাঁর শিক্ষার্থীরা জীবনে অনেক দূর এগিয়েছে—এটাই তাঁর বড় গর্ব। সহকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে অজান্তে কোনো ভুল করে থাকলে তাঁকে যেন ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদ বলেন, প্রিয় শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে তাঁর ভালো লাগছে। একসময় তিনিও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাই বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার অনুভূতি ও কষ্ট তিনি উপলব্ধি করতে পারেন।
এ সময় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীরা খেলার সরঞ্জাম এবং ছাত্রীদের জন্য একটি কমন রুমের দাবি জানায়। জবাবে আরিফুল ইসলাম জাহিদ এক মাসের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল অর্জনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারেননি। তবে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে ঘিরে আয়োজিত এ সংবর্ধনা শুধু একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়; বরং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, স্মৃতি এবং ভালোবাসার এক আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে রইল হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন