প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে একটি বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ মাছ ধরার জালে ধরা পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে উপজেলার হারুকান্দি এলাকার পদ্মা নদীর চরসংলগ্ন স্থান থেকে সাপটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে বন বিভাগ এবং 'স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ'-এর সহযোগিতায় জীবিত সাপটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকার জেলে সুজন সোমবার (২৯ জুন) রাতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার জন্য জাল পেতে রেখেছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে জাল তুলতে গিয়ে তিনি একটি জীবিত রাসেল ভাইপার দেখতে পান। তবে তিনি সাপটিকে হত্যা না করে এটি একটি নেটের মধ্যে নিরাপদে আটকে আন্ধারমানিক খেয়াঘাটে নিয়ে যান।
জেলে সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, "সাপটি না মেরে ধরে এনেছি।" রাসেল ভাইপার উদ্ধারের খবর মুহূর্তেই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
একনজর সাপটি দেখতে আন্ধারমানিক খেয়াঘাটে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান।
হরিরামপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সহযোগিতায় সাপটি উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত অবস্থায় পাওয়ায় সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাসেলস ভাইপার সম্পর্কে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, রাসেলস ভাইপার (Russell's Viper) সাপটি ‘চন্দ্রবোড়া’ বা ‘উলুবোড়া’ নামেও পরিচিত। এটি ইঁদুর ও টিকিটিকি খায়। বসতবাড়ির আশেপাশে এদের প্রাচুর্যতা বেশি থাকায় খাবারের খোঁজে রাসেলস ভাইপার অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে এবং মানুষকে দেখে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে কখনও কখনও আক্রমণও করে বসে।
তিনি বলেন, সাধারণত পদ্মার চরাঞ্চল, নদী অববাহিকা ও বরেন্দ্র এলাকায় উঁচু-নিচু জমিতে এই সাপটি বেশি দেখা যায়। সাধারণত জুন-জুলাই মাসে এটি প্রজননকাল কাটায়। এটি ডিম দেওয়ার বদলে সরাসরি ৬-৬৩টি বাচ্চা প্রসব করে। দেখতে মোটাতির, লম্বায় ২ থেকে ৩ ফুট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই সাপের গায়ে ছোপ-ছোপ গোলাকার কালা দাগ থাকে। ঘন ঘন জিহ্বা বের করে হিসহিস শব্দ করে। সাপটি সম্পর্কে যার ধারণা নেই তিনি এটিকে অজগর ভেবেই ভুল করবেন।
জোহরা মিলা বলেন, আইইউসিএনের ২০১৫ সালের লাল তালিকা অনুযায়ী রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। এই সাপের বিষ ‘হেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পচেই আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যায়। তাই সাপটির কবল থেকে বাঁচতে সচেতনতাই কার্যকর পথ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী সাপটি সংরক্ষিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন