প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজিব হোসেন সুমন, যিনি মেরিল সুমন নামে পরিচিত, তাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গতকাল রবিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রংপুর মহানগরীর সিও বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১৩ তাকে গ্রেপ্তার করে।
মেরিল সুমন রংপুর মহানগরীর শালবন শাহীপাড়া এলাকার মো. আবু হানিফের পুত্র। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি এবং অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৬টি মামলা রয়েছে। তবে এসআরবি-১৩ জানায়, কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআরবি-১৩-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া, ভারপ্রাপ্ত) মুহম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার ও মারামারির আটটি মামলা, চাঁদাবাজির চারটি মামলা, ডাকাতির প্রস্তুতির তিনটি মামলা, অস্ত্রের ছয়টি মামলা, হত্যা, অপহরণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত একটি করে এবং দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ তৎকালীন র্যাব-৫-এর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মেরিল সুমন। ২০১৯ সালে রংপুর মহানগরীর তাজহাট এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি, শুটার গান এবং চীনা কুড়ালসহ তাকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র্যাব-১৩।
এছাড়া ২০২৩ সালে রংপুর মহানগরীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে পিস্তল ও ইয়াবাসহ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের ওপর হামলা, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনার অভিযোগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে ঠাকুরগাঁও থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১৩ এর ভাষ্য অনুযায়ী, মেরিল সুমন দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের অপরাধজগতে সক্রিয় রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজস্ব বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি ও বালুমহল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছেন।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে এসআরবি-১৩-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তার অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান এবং সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন