প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একের পর এক আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে ফৌজদারি তদন্ত। প্যারিস পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস মানসিক নির্যাতন ও বুলিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানে এই তদন্ত শুরু করেছে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর অক্টোবর মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ সার্ভিসেস অব দ্য প্রাইম মিনিস্টার দপ্তরে দুই কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন, দুজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, এবং একজনের মৃত্যু রহস্যজনক।
প্যারিস প্রসিকিউটর অফিসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী ও ৫০টি বিভাগ নিয়ে গঠিত এই প্রশাসনিক কাঠামো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে। তবে ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দপ্তরের কর্মী ছিলেন না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে লরা নামের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু এক পথচারীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তিনি কর্মস্থলে মানসিক নির্যাতন এবং জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ তথ্য করেছেন। তাঁর আইনজীবী দাবি করেছেন, লরাকে কর্মস্থলে একঘরে করে রাখা হয়েছিল, তাঁকে সভায় ডাকা হতো না এবং সাংগঠনিক তালিকা থেকেও তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে এক নারী কর্মকর্তা অফিসের মধ্যে ছুরি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে এক প্রকল্প ব্যবস্থাপক তাঁর নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন। একই মাসের মধ্যে ৫৯ বছর বয়সী আরেক কর্মকর্তা ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এছাড়া, এপ্রিলে এক তরুণ কর্মকর্তার মরদেহ সরকারি দপ্তরের শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আমলে রাজনৈতিক পরিবর্তন, নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা কর্মীদের উপরে মানসিক চাপ বাড়িয়েছে।
তবে প্রশাসনিক ও আর্থিক সেবা অধিদপ্তর কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, লরা নিজেও একজন কর্মীকে হয়রানির অভিযোগে শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়ার মুখে ছিলেন। পাশাপাশি, গত অক্টোবরের আত্মহত্যার চেষ্টা চিকিৎসা কমিটি কর্মক্ষেত্রজনিত ঘটনা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। দুটি আত্মহত্যার ঘটনায় পৃথক অভ্যন্তরীণ তদন্তও চলমান।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন