প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানসহ চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। এর পাশাপাশি, তারা কেন বীভৎস দেখাচ্ছিলেন, সেই ব্যাখ্যাও তিনি প্রদান করেছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবলু কুমার বিশ্বাস বলেছেন, চারটি মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হতে পারে। তবে ধস্তাধস্তির ফলে হয়তো কিছু স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, এর বাইরে আর কোনো কিছু নেই।
ডেডবডির মুখ কেন বীভৎস দেখাচ্ছে, এ সম্পর্কে তিনি বলেন, "ডেডবডি যখন পচতে শুরু করে, তখন এক্সপোজড এরিয়াগুলো যেগুলি পোশাকের বাইরে থাকে, সেগুলি অনেক সময় একটু কালো দেখায়। এটি ধারণা করা হয়েছে। এটি কোনো কেমিক্যাল বার্নের প্রমাণ নয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, "কালো দেখাচ্ছে এটা অস্বীকার করা যাবে না। তবে এটি ডিকম্পোজিশন প্রসেসের কারণে হচ্ছে। মরলে সাধারণত মৃতদেহ পচে যায় এবং কালারগুলো তখন পরিবর্তন হয়। সব সময় তাজা দেহের পরিবর্তে পচা দেহ দেখা যায় না।"
এর আগে, মরদেহ উদ্ধার করার পর, পুলিশ নিহতদের মুখের কাছে তরল পদার্থ দেখতে পায়। পুলিশ বিভাগের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বীভৎস মুখের অবস্থা সম্পর্কে জানিয়েছিল। এই কারণে, মরদেহে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় কিনা সেই ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বলেছেন, "নিহতদের মুখগুলি প্রাথমিক অবস্থায় বীভৎস ছিল। মুখের কাছে কিছু তরল অবস্থায় ছিল। এর ফলে আমাদের মনে হয়েছিল, কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ফরেনসিক ডাক্তার ওপর নির্ভর করে জানা যাবে তাদের শরীরে কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার হয়েছে কিনা। ফলস্বরূপ, ফরেনসিক রিপোর্ট পেলে তাদের মুখের অস্বাভাবিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শনিবার রাতে পুলিশ চারটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
গত শনিবার রাতে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস (২৩) এবং মুগ্ধ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন আদালত-২ এ তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এই ঘটনায় গোপীনাথ চক্রবর্তী, গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই, রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় প্রাথমিকভাবে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন