প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তাইওয়ানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে এবং দেশটির মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন কূটনৈতিক ও সামুদ্রিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে। প্রতিপক্ষকে সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে চাপের মধ্যে রাখার কৌশলটিকে ‘গ্রে জোন’ বা ধূসর অঞ্চলের কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কারণে চীন প্যারাগুয়ের যোগাযোগমন্ত্রী ও বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনিতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার ফলে সফরটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে মে মাসে এসওয়াতিনির রাজার উড়োজাহাজে করে সফরটি সম্পন্ন হয়।
তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের জলসীমায় চীনের কোস্টগার্ড ও অন্যান্য সরকারি জাহাজের কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা এসব জাহাজের নজরদারি ও পরিদর্শনকে তাইওয়ানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
চীন দাবি করে, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। চীন তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে এবং অন্যান্য দেশগুলোকে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন না করার আহ্বান জানায়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তাইওয়ানের কূটনৈতিক যোগাযোগ সীমিত করা নয়; বরং দেশটির মিত্রদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করা যে, তাইওয়ানের পাশে দাঁড়ালে তাদেরও কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে।
তবে এই চাপের মধ্যেও জাপান ও ফিলিপাইনের মতো কয়েকটি দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তাইওয়ান প্রণালিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আগ্রহী দেশগুলোর উচিত চীনের অবস্থানের বিরুদ্ধে আরো স্পষ্টভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন