প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রযুক্তির ব্যবহারের বৃদ্ধি সঙ্গে দেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বর্জ্যের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে, পরিবেশকর্মীরা তরুণ সমাজকে ই-বর্জ্য দূষণ প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত একটি সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে বক্তারা এই আহ্বান জানান।
ভলান্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্ট (VFE) এবং ইউক্যানের (YOUCAN) যৌথ উদ্যোগে, ভাঙাড়িওয়ালার সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তারা উল্লেখ করেন, পুরোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টেলিভিশন, নষ্ট ব্যাটারি ও চার্জারের মতো ইলেকট্রনিক পণ্যে সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। এসব বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া কিংবা খোলা জায়গায় পোড়ানোর ফলে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণ ঘটে। পাশাপাশি, মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।
ইউক্যানের প্রতিষ্ঠাতা যুধিষ্ঠির চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিবর্তন আনতে তরুণ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে। শুধু সচেতনতা তৈরি নয়, দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চর্চাও বাড়াতে হবে।”
ভলান্টিয়ার ফর এনভায়রনমেন্টের পরিচালক শেখ শাহরুখ ফারহান বলেন, “ই-বর্জ্য দূষণ রোধে তরুণদের শুধু নিজেদের সচেতন হতে হবে না, পরিবার ও কমিউনিটিতেও দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”
ভাঙাড়িওয়ালার উদ্যোক্তা নাসিম নেক বলেন, “ই-বর্জ্যকে সাধারণ আবর্জনা হিসেবে বিবেচনা না করে সঠিকভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য ভাঙাড়ি সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা জরুরি।”
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও, সে অনুযায়ী ই-বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও নিরাপদ পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এই কারণে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
তারা বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধুমাত্র সরকারের একার দায়িত্ব নয়। নাগরিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে এই বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় ব্যবহারের অনুপযোগী ইলেকট্রনিক পণ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে জমা দেওয়ার, মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য পণ্য পুনরায় ব্যবহার এবং নিরাপদ পুনর্ব্যবহারে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আয়োজকরা জানান, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক পর্যায়ে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে জনসম্পৃক্ততামূলক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ক্যাম্পেইনের মূল স্লোগান ছিল—‘Recycle, Rethink, Reform, Reuse’।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন