প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘ সাত মাস ধরে চলা সামরিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এবার একটি বড় ধরনের ধাক্কা এসেছে। মহসেন পাকনেজাদ, দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী, তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ও চলমান সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) তাসনিম নিউজের বরাতে আনাদুলু এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের যোগাযোগ বিভাগের উপপ্রধান মেহদি তাবাতাবাই জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকনেজাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকির জন্য হামিদ বোভার্ডকে ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে পাকনেজাদের পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদ বোভার্দকে সাময়িকভাবে ইরানের ভারপ্রাপ্ত জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মহসেন পাকনেজাদ ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণী মূল চেয়ারে বসেন।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট এবং সম্ভাব্য তেল রপ্তানির ঝুঁকির কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হলো। বিস্ময়করভাবে, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তিনি তেল বিক্রি নিয়ে আশাবাদী বক্তব্য প্রদান করেছিলেন।
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাধা ও অবরোধের মধ্যেও তেল বিক্রির অর্থ যথাসময়ে ইরানের অর্থনীতিতে আসছে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। ফলে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি কেন পরিবর্তিত হলো এবং তিনি ঠিক কী কারণে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তেহরান থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অবরোধ, ক্রমাগত সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যই এই আকস্মিক রদবদলের কারণ হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন