প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ফসলের ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত ও দমনের জন্য আলোক ফাঁদ ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি এড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, ফসলের জমিতে সন্ধ্যার পর একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানো হয়। এই বাল্বের নিচে পানিতে সামান্য কেরোসিন, ডিটারজেন্ট বা সাবানের গুঁড়া মেশানো একটি পাত্র রাখা হয়। আলোতে আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ওই পাত্রে পড়ে আটকা পড়ে। ফসলের জমির পাশে পোকার আক্রমণ বেশি এমন স্থানে এই আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়।
এ পদ্ধতির মাধ্যমে জমিতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে পোকার ধরন ও সংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমে এবং মাটি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস পায়।
কৃষি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, আলোক ফাঁদ তৈরি ও ব্যবহার করা খুব সহজ। অল্প খরচে ফসলের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে ফসলের সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শর্মিলা শারমিন বলেন, ফসলের ক্ষতিকর পোকা আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ফাঁদে আটকা পড়ে। তাই নিয়মিত আলোক ফাঁদ পর্যবেক্ষণ করে পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা গেলে শুরুতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসেন সোহেল বলেন, এ উপজেলায় ২৭টি ব্লক রয়েছে। প্রতিটি ব্লকে সপ্তাহে এক দিন একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
কৃষি বিভাগের এই উদ্যোগের ফলে পলাশবাড়ীর কৃষকদের কাছে আলোক ফাঁদ শুধু পোকা শনাক্তের কৌশল নয়, বরং এটি ফসলের সুরক্ষায় সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব একটি পদ্ধতি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এমএইচ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন