প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সান সেবাস্তিয়ানের সেই ছোট্ট শহর থেকে উত্তর লন্ডন—সময় পরিবর্তিত হয়েছে, বদলেছে মঞ্চও। একসময় স্পেনের ক্লাব আন্তিগুওকোর হয়ে একসঙ্গে ফুটবল খেলা দুই কিশোর আজ মুখোমুখি ডাগআউটে দাঁড়িয়ে আছেন। এক পাশে রয়েছেন মিকেল আরতেতা, অন্য পাশে জাবি আলোনসো। পুরনো দুই বন্ধুর মধ্যে এই লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসলেন আরতেতা। নাটকীয় লন্ডন ডার্বিতে চেলসিকে ২-১ গোলে পরাজিত করে প্রিমিয়ার লিগে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল।
শুরুর মুহূর্তটি যেন ঝড়ের মতো। এমিরেটস স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখনো পুরোপুরি বসে উঠেনি, খেলা মাত্র শুরু হয়েছে। এমন সময়েই আঘাত হানে চেলসি। ৭৭ সেকেন্ডের মধ্যে তারা গোল করে। লন্ডন ডার্বি যে এইভাবে আগুন ছড়িয়ে শুরু হবে, তা হয়তো আর্সেনালও ভাবেনি।
মরগান রজার্স নামটি আর্সেনাল সমর্থকদের কাছে অচেনা নয়। একসময় যাকে দলে নেওয়ার গুঞ্জন ছিল, সেই ইংলিশ মিডফিল্ডারই প্রথম ধাক্কাটি দিলেন। ফ্রি কিক থেকে বক্সের বাইরে পড়ে থাকা বলটি ভলিতে জড়িয়ে দিলেন জালে। ডেভিড রায়া নড়ার আগেই বলটি জালের কোণে ঢুকে গেছে। চেলসি এগিয়ে গেল ১-০ গোলে।
গোল খেয়ে আর্সেনাল থেমে থাকেনি। মিকেল আর্তেতার দল ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছাপ ফেলতে শুরু করে। মার্টিন ওডেগার্ড, বুকায়ো সাকা, কাই হাভার্টজদের পাসিংয়ে ছন্দ ফিরে আসে। একবার তো বল জালেও জড়ায়। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে সেই গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। তখনও স্কোরলাইন চেলসির পক্ষেই ছিল।
মাঝে কয়েক মিনিট যেন শ্বাস নেওয়ারও সময় ছিল না। একদিকে আক্রমণ গড়ছে আর্সেনাল, অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ছুটছে চেলসি। সাকার শট ঠেকালেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আবার রিস জেমসের দূরপাল্লার শট সামলাতে হিমশিম খেলেন রায়া। ম্যাচ তখন খোলা, অনিশ্চিত, দুলতে থাকা এক পাল্লার মতো।
শেষ পর্যন্ত সেই দুলুনি থামালেন হাভার্টজ। ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে নিচু শটে গোল করে আর্সেনালকে ম্যাচে ফেরালেন। ১-১। ম্যাচ আবার নতুন করে শুরু হলো যেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও সুযোগ পেয়েছিল চেলসি। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে পেদ্রো নেতোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য সেদিন আর্সেনালের পাশেই ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে গল্পটি পুরোপুরি বদলে গেল। এবার মঞ্চে উঠলেন ওডেগার্ড। হাভার্টজের বুদ্ধিদীপ্ত ডামি পাস ছেড়ে দিয়ে, সেই ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে নিখুঁত শট নেন। মার্টিনেজের কিছু করার ছিল না। আর্সেনাল এগিয়ে গেল ২-১ গোলে।
এরপর চেলসি চেষ্টা করেছে। পাল্টা আক্রমণ, উইং দিয়ে উঠে আসা, দূরপাল্লার শট। কিন্তু আর্সেনালের রক্ষণ এবং রায়ার দৃঢ়তা তাদের বারবার থামিয়ে দিয়েছে। ম্যাচের শেষমুহূর্তে এস্টেভাওয়ের বাঁকানো শটটি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রায়া। সেটিই যেন ম্যাচের শেষ সিলমোহর।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন