প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ইতালিতে ভালো ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানোর মাধ্যমে মানুষকে শ্রীলঙ্কা, মিশর বা অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হতো এবং দেহব্যবসায় বাধ্য করা হতো। এই আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের একজন মূলহোতা মোহাম্মদ আরজু রহমানকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান এই তথ্য প্রকাশ করেন। এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর বনানীর সি ব্লক এলাকা থেকে এসআরবি-৪ ও এসআরবি-১ এর যৌথ অভিযানে আরজুকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি জানায়, ১৬ জুলাই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। মিশর থেকে কামরুন নাহার ফাতেমা নামের এক ভুক্তভোগী এনএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে তাকে মিশরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এসআরবি জানায়, ফাতেমা ও তার পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৮৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় আরজু। প্রথমে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ভিসা পাওয়া সম্ভব নয়, তাই তাদের শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নির্যাতনের শিকার হয়ে পরিবারের তিন পুরুষ সদস্য কোনোমতে পালিয়ে দেশে ফেরেন। কিন্তু ফাতেমা ও আঞ্জুমান আরা নামের দুই নারী আটকা পড়ে যান।
আঞ্জুমান আরা শ্রীলঙ্কাতেই পালিয়ে আত্মগোপনে থাকেন, আর ফাতেমাকে ইতালির মিশরীয় দূতাবাস থেকে ভিসা করানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়। মিশরে নিয়ে যাওয়ার পর ফাতেমার ওপর শুরু হয় চরম নির্যাতন। তাকে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়। তিনি এতে রাজি না হলে শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার মতো ভয়াবহ শারীরিক অত্যাচার চালানো হয়।
১২ বছরে ২ হাজার মানুষকে পাচার
এসআরবি জানায়, গ্রেফতার আরজু গত ১২ বছর ধরে এই পাচারকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সে দুই হাজারেরও বেশি সরল-সহজ মানুষকে ইউরোপের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশে পাচার ও বিক্রি করে দিয়েছে। সে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ ও ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’ নামের ভুয়া নাম ব্যবহার করত, যদিও তার নিজস্ব কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আরজুর ব্যবহৃত মোবাইলে পাওয়া ব্যাংক স্টেটমেন্টে গত এক বছরে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে মিশরে অবস্থান করা আরজু ৩-৪ দিন আগে বাংলাদেশে আসে এবং সম্প্রতি পুনরায় মিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এনএসআই ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ট্র্যাকিং এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শ্রীলঙ্কা থেকে পালিয়ে আসা তিন ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আরজুকে গ্রেফতার দেখিয়ে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীরা যোগাযোগের পর দেশের বিভিন্ন থানায় আরজুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি।
এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, শ্রীলঙ্কায় আত্মগোপনে থাকা আঞ্জুমান আরা এবং মিসরে থাকা কামরুন নাহার ফাতেমাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন