প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানে পারমাণবিক হামলা চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে খুব শিগগিরই—এমন দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন। তিনি বলেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার অনুমতি দিতে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি দীর্ঘ পোস্টে এসব দাবি তুলে ধরেন কার্লসন। তিনি মধ্য ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের একটি স্থানের কথা উল্লেখ করে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সেটিকে চিহ্নিত করেন। কার্লসনের দাবি, ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই স্থানে ইরান আবারও পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে।
টাকার কার্লসন একজন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপক। ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ‘টাকার কার্লসন টুনাইট’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। বর্তমানে এক্সে নিজের স্বাধীন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত মন্তব্য করেন তিনি।
কার্লসন আরও দাবি করেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু কঠিন গ্রানাইট পাথরে সুরক্ষিত। ফলে সেখানে প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক পদক্ষেপের একমাত্র বিকল্প হতে পারে পারমাণবিক হামলা।
তিনি তার পোস্টে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) এ বিষয়ে প্রতিদিন ট্রাম্পকে ফোন করেন।’ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন কার্লসন। তার দাবি, ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেতানিয়াহুর। তা না হলে তিনি ক্ষমতা হারাতে পারেন এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও কারাদণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কার্লসন আরও অভিযোগ করেন, ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুসরণ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কার্লসন আরও বলেন, কাতারের রাজধানী দোহায় যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির খসড়া তৈরি করা হচ্ছিল, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তার বিরোধিতা করেছিলেন।
তবে কার্লসনের এসব দাবির পক্ষে তার পোস্টে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট মার্কিন ও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানে পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি চলছে—এমন দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে নেই।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন