প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এয়ারপোর্ট এলাকার হজ ক্যাম্প থেকে তালতলা নর্দা পর্যন্ত দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। কিন্তু, এই পথটুকুই বর্তমানে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এখানকার আশকোনা, কাওলা তালুকদারপাড়া এবং গাওয়াইরের চিত্র একবারেই একই। পুরো রাস্তা জুড়ে রয়েছে কাদা এবং নোংরা পানি।
এমন দুর্গম রাস্তায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। বেশি সমস্যা দেখা দেওয়ায় স্থানীয়রা রাবিশ ও বালুর বস্তা ফেলে কষ্টার্জিতভাবে হাঁটার পথ তৈরি করেছে। তবে, কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এলাকায় বসবাসরত একাধিক ভুক্তভোগী তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, ‘আমার ছেলে দুই মাস আগে মারা গেছে। ছেলেকে দাফন করার জন্য এখান থেকে তিন মাইল কাঁধে করে নিয়ে গেছি। এই আশকোনা কেন অবহেলিত? আশকোনার নেতারা কী করছেন? আশকোনার বরাদ্দ কোথায় গিয়েছে, সব তদন্ত করা উচিত।’
রাস্তার এই বেহাল দশায় স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে গেছে। এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। লোকসান গুনতে গুনতে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। একই ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও একই রকম। শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে যেতে পারছে না। স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে কমতে বর্তমানে প্রায় শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, ‘পরীক্ষার সময় পানি পার হয়ে যেতে হয়। অনেক ঝুঁকি থাকে। বৃষ্টি হলে আমরা বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে পারি না, আবার আনতেও পারি না।’
অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে আরেকজন বলেন, ‘দোকানপাট সবগুলো বন্ধ। এদিকে কোনো লোক আসতে পারে না।’
তবে বরাবরের মতো আশ্বাসের বাণী দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে। সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিটি কর্পোরেশনের চলমান কাজের গতি দেখে হয়তো কিছুটা ছাড় দিই। আর যদি তারা ওইভাবে কাজ না করে, কিংবা ঠিকাদারের কোনো গাফিলতি থাকে, তাহলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন