প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরে আর্থিক লেনদেনের বিরোধের কারণে কসাই নুর মোহাম্মদকে (৪২) শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে সুজন সরকারকে (৩৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একইসঙ্গে, তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সামছুন্নাহার এই রায় ঘোষণা করেন।
নিহত নুর মোহাম্মদ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র। তিনি বড় স্টেশন এলাকায় গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অপরদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন সরকার জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের সুদর্শন আইচ্চাইল্লা সরকারের সন্তান। তিনি পেশায় জেলে এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের একটি খালি জমিতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় স্থানীয় গ্রাম পুলিশের দ্বারা। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরদিন ৩ মার্চ ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ সুজন সরকারকে গ্রেপ্তার করে এবং ওই বছরের ২৯ অক্টোবর তাকে আদালতে সোপর্দ করে।
তদন্তে জানা যায়, বড় স্টেশন এলাকায় ব্যবসা করার সুবাদে নুর মোহাম্মদ ও সুজন সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং উভয়ের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ছিল। এই লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সুজন কৌশলে নুর মোহাম্মদকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেন এবং পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে মতলব দক্ষিণ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন চন্দ্র দাস ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) কোহিনুর রশিদ জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচারক আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য তিন আসামিকে আদালত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রাজেস মুখার্জী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন