প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং চীনের তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সমঝোতার আওতায় আগামী কয়েক বছরে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়।
রোববার চীনের তিয়ানজিনে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সফরকালে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিং দং। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক লিকিয়াং উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তার, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ সহযোগিতা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি ইউজিসি ও তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ অর্থায়নে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি প্রকৌশল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মানবিকসহ অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের শিক্ষক ও গবেষকদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চীনা ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধি করতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও কনফুসিয়াস ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি জানান, ইউজিসি দেশের প্রায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে দক্ষ শিক্ষক, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং একাডেমিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে কমিশন।
এ ছাড়া বাংলাদেশে যৌথ গবেষণাগার স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, এতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও সক্ষমতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে।
তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিং দং বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিশ্ববিদ্যালয়ের আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, একাডেমিক মোবিলিটি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক লিকিয়াং জানান, বর্তমানে প্রায় ৭০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে সেখানে অধ্যয়নের সুযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগ্রহী।
সমঝোতা স্মারকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণাগার স্থাপন, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অংশীদারত্ব বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণার উৎকর্ষ এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন