প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলেও লাভবান হচ্ছেন নওগাঁর চাষিরা কাঁচামরিচ বিক্রির মাধ্যমে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই মৌসুমি সবজি ও কাঁচামরিচের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটেছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকরা বিক্রিতে সুবিধা পেয়েছে। সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়লেও কৃষকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
সদর উপজেলার ফারাদপুর গ্রামের কৃষক নিলয় প্রামাণিক মাত্র ৮ কাঠা জমিতে কাঁচা মরিচ চাষ করেছিলেন। প্রথম কয়েক দিনে তিনি ১০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করে খুশি ছিলেন। কিন্তু একদিনের বৃষ্টিতে অনেক গাছ তলিয়ে গিয়ে তার আসা ভেস্তে যায়। তবুও তিনি আশাবাদী হয়ে আবার মরিচ চাষ করেছেন এবং লাভের প্রত্যাশা রাখছেন।
উত্তরের জেলা নওগাঁ খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। গত দুই সপ্তাহে এর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২১০ টাকা বেড়েছে। কৃষকরা এই পরিস্থিতিতে লাভবান হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ থেকে গেছে।
দুই সপ্তাহের মধ্যেই কাঁচা মরিচের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে মরিচের দাম প্রতি কেজি ৮০-৯০ টাকা ছিল, যা এখন পাইকারি বাজারে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের জন্য অনুকূল হলেও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিষয়টি দুশ্চিন্তার। ব্যবসায়ীরা জানান, অতিবৃষ্টির কারণে উৎপাদন কমেছে এবং বাজারে সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে দাম বেড়েছে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ১ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে প্রায় ১০ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে উৎপাদনও কমেছে।
মহাদেবপুর উপজেলার মোমিনপুর হাটে মরিচের বেচাকেনা চলতে থাকে বছরের বেশ কিছু মাস। এখানে প্রতি মাসে প্রায় তিন কোটি টাকার কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হয়। বর্তমানে এখান থেকে নওগাঁ ছাড়াও অন্যান্য জেলায় মরিচ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রামে সাদা মরিচের চাহিদা রয়েছে এবং বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে।
রাণীনগর উপজেলার ক্রেতারা জানান, কুজাইল বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২৮০ টাকায় পৌঁছেছে। নওগাঁ শহরের বিভিন্ন বাজারেও মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, মরিচের পাইকারি দাম ২৫০ টাকা, যা পরিবহন খরচ যোগ করে ২৮০ টাকার জন্য বিক্রি করতে হচ্ছে।
বর্তমানে নওগাঁ শহরের পালপাড়া খুচরা বাজারে মরিচের দাম কমে এসেছে। কৃষকদের মতে, প্রধান সমস্যা হচ্ছে অতিবৃষ্টি যা তাদের উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের জন্য পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন