শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪০ এম
শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সবুজবাগ সরকারি স্কুল ও কলেজে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষা জীবনের পথ অনেক দীর্ঘ। এই পথ অতিক্রম করতে হলে কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য প্রয়োজন। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়া যাবে না।’ তিনি আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপতি কলিন পাওয়েলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘কোনো স্বপ্ন জাদুতে বাস্তবে পরিণত হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ঘাম, দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রম।’
মেধাবী ও শিক্ষিত হলেও অহংকার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা আগামী দিনের বাংলাদেশ। দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে এবং দেশসেবায় নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনের যেকোনো সমস্যা সমাধানে তরুণ প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, জননী, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষা—এই তিন ‘মা’কে সব সময় হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তিনি মিথ্যা, মাদক ও মুখস্থবিদ্যার মতো তিন ‘ম’কে মনেপ্রাণে বর্জন করার আহ্বান জানান।
শিক্ষাকে টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল সনদ অর্জন নয়; বরং দক্ষতা, বাস্তব জীবনের সক্ষমতা ও সামাজিক অগ্রগতি অর্জন করা। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে একটি সাধারণ প্রকল্প হিসেবে না দেখে জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে।
শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, শিক্ষকেরা জাতির মেরুদণ্ড গড়ার নিপুণ কারিগর। তাদের যথাযথ সম্মান জানালেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্মানিত হবে।
সবুজবাগ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নূর আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিটন মাহমুদসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ এবং দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবারের এই পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। অবকাঠামোর গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
মন্ত্রী পরিদর্শনকালে প্রকল্পের সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি, পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং কাজ আরও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেন।
প্রকৌশলগত দক্ষতার সঙ্গে স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণশৈলী একটি দেশের কারিগরি দক্ষতার পরিচয় বহন করে। তাই কেবল প্রকল্প শেষ করাই যথেষ্ট নয়; অবকাঠামোর স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও সামগ্রিক মানের দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’ তিনি প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্ধারিত মান অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের সময় সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ মন্ত্রীকে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
প্রকল্পের তথ্যমতে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ হয়েছে। পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি এই দোতলা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি চালু হলে নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন এবং স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে বিশেষ গতিশীলতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই সুরক্ষিত এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা উচিত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে, জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্টদের এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনের সময়, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণের মাঠ, বাগান এবং বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। তিনি সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকার সার্বিক পরিবেশ, অবকাঠামোগত অবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ওপর নজর রাখেন।
জাতীয় সংসদ প্লাজার সৌন্দর্য এবং পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী মাঠ ও বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবুজায়ন এবং বিদ্যমান গাছপালার সঠিক পরিচর্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
এছাড়া, সংসদ প্লাজা ও এর আশপাশের এলাকায় যেসব স্থানে সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রেখে প্লাজা এবং এর সংলগ্ন এলাকার নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বন্ধন অটুট রাখতে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো পরিস্থিতিতে সুযোগসন্ধানীরা যেন সামাজিক এই সম্প্রীতির বন্ধন ধূলিসাৎ করতে না পারে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলা মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।
এদিন উপজেলার ১৫১টি শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে সরকারি বরাদ্দের ডিও লেটার তুলে দেওয়া হয়। এর আওতায় প্রতিটি মন্দিরকে ৭ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়।
এছাড়াও সাংসদ ফাহমিদা হক তার নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৭টি পূজামণ্ডপে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
উপজেলা এসএফডিএফ কর্মকর্তা জি এম জাকারিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পূজা উদযাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অবশেষে শেয়ারবাজারের বিশেষায়িত জাতীয় বিনিয়োগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটের (বিএএসএম) বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে পরিচালনা পর্ষদ। ফলে আপাতত বন্ধ হচ্ছে বিনিয়োগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এর আগে বিএএসএমের পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিচালনা পর্ষদ বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির খরচ কমাতে দিলকুশার জীবন বীমা ভবন থেকে এর কার্যক্রম মতিঝিলের ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) ভবনের ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) কার্যালয়ে যাবে। বর্তমানে প্রতি মাসে অফিস ভাড়া এবং সার্ভিস চার্জসহ আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে বিএএসএমের অফিস সিএমএসএফ কার্যালয়ে গেলে এ খরচ বাঁচবে। আগামী বছরের ১ জানুয়ারিতে অফিস স্থানান্তরের কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. শফিউল আযম আমার দেশকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘বিনিয়োগ শিক্ষামালা গেজেট’-এর অধীনে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএএসএমের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি গেজেটে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বিলুপ্ত করার কোনো উদ্দেশ্য বা আইনি কাঠামো রাখা হয়নি; বরং দেশের অর্থনৈতিক ও পুঁজিবাজারের স্বার্থে এটিকে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নীতিগত উদ্দেশ্য যেমন দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা, আর্থিক সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গতিশীল রাখতে বিএএসএম ‘নিবেদিত বাস্তবায়নকারী শাখা’ হিসেবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনেক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও দ্রুত সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অন্য কোনো সাধারণ বা একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়মিত বা ব্যাপক পরিসরে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত দুরূহ। এই বাস্তব প্রয়োজন থেকেই কম প্রশাসনিক জটিলতায় এবং অধিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিএএসএমকে গড়ে তোলা হয়েছিল। যদিও পুঁজিবাজারে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট’ (বিআইসিএম) একটি স্বতন্ত্র গবেষণা ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে, তবে বিএএসএম সুনির্দিষ্টভাবে কমিশনের নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও মাঠপর্যায়ের ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।
জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে বিএএসএম পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনসহ প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীকে পেশাগত ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী; ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলারের কর্মকর্তারা। এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালক, সিএফও, কোম্পানি সেক্রেটারি ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি বাজারে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে শতাধিক কর্মশালা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে।
জানা গেছে, এক বছর ধরে বিএএসএমে কোনো নিয়মিত মহাপরিচালক নেই। সূত্র জানায়, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সময় থেকেই প্রতিষ্ঠানটির ওপর নানামুখী চাপ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরিবর্তে টিকটক কনটেন্ট বানানোর ওপর জোর দিয়েছিলেন। ফলে দেশব্যাপী বিনিয়োগ সচেতনতা তৈরির মূল উদ্দেশ্য থেকে বিএএসএম বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের উন্নত ও উদীয়মান প্রায় প্রতিটি পুঁজিবাজারেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে এমন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কার্যকর রয়েছে। তাই সাময়িক কোনো প্রশাসনিক বা আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে অসিলা করে এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা সমীচীন হবে না। পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে বিএএসএমের প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিএএসএমের ওয়েবসাইটে দেওয়া বাণীতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান পুঁজিবাজারের স্থায়িত্ব এবং দেশব্যাপী আর্থিক সাক্ষরতা প্রসারে এই প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে উল্লেখ করে বলেন, ‘অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল সমাজের বৃহত্তর অংশের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হলে দেশব্যাপী আর্থিক সাক্ষরতা নিশ্চিত করা জরুরি। আর সারা দেশে এই আর্থিক সাক্ষরতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই বিএএসএম গঠন করা হয়েছে, যা সরকারের ‘দেশব্যাপী আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি’ অর্জনের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।’
বিএএসএমের মহাপরিচালক ও বিএসইসির নির্বাহী পরিচারক কামরুল আনাম খান আমার দেশকে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিএএসএমের কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত নিজস্ব ফান্ড থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ