প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে পেট্রলপাম্প থেকে জ্বালানি চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লাখ পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্বালানি চুরি হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি অপরাধ প্রতিরোধ প্ল্যাটফর্ম ফোরকোর্ট আই জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরের পাঁচ মাসে মূল্য পরিশোধ না করেই পেট্রলপাম্প থেকে জ্বালানি নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা আগের পাঁচ মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের বাজারেও।
ফোরকোর্ট আইয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার পাউন্ড মূল্যের জ্বালানি চুরি হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে, যা ৪৮ শতাংশ অধিক।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, জ্বালানি চুরির পাশাপাশি পেট্রলপাম্পে কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে।
৫৫০টি পেট্রলপাম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। পরে তা যুক্তরাজ্যের মোট ৮ হাজার ৩৫৯টি পেট্রলপাম্পের সম্ভাব্য চিত্রের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৮৭২টি জ্বালানি চুরির ঘটনা ঘটছে। যুদ্ধের আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার ৪০০।
এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে মূল্য পরিশোধ না করেই গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়া অথবা ট্যাংক ভর্তি করার পর অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য নেই বলে দাবি করা।
চুরি হওয়া জ্বালানির পরিমাণও বেড়েছে ২৪ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে ৮৭ হাজার লিটার থেকে তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯০০ লিটার হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ফোরকোর্ট আই জানিয়েছে, তারা ফেসওয়াচ নামের একটি ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। আগামী শরৎকাল থেকে ২ হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতাকে অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিবেদন তৈরির প্রযুক্তি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে।
এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের একটি খসড়া চুক্তির পর দাম কিছুটা কমলেও শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আবার বাড়তে শুরু করে। গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের প্রাদুর্ভাবের পর জ্বালানির দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কেউ যদি অস্বাভাবিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে মুনাফা করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের মূল্য কারসাজির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন