প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে চীন ছেড়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেইজিং থেকে তাঁর রওনা হওয়ার খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন শি।
শি জিনপিং সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, বিশ্বশান্তি এবং উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। বেইজিংয়ের মতে, ছয় মাসের মধ্যে দুই নেতার দ্বিতীয় পারস্পরিক সফরটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কৌশল গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক কিয়ান ফেং মনে করেন, শির এই সফর বিশ্ববাজারের প্রত্যাশা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, দুই নেতার সরাসরি যোগাযোগ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বাড়াতে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কিয়ান ফেং আরও বলেন, ছয় মাসের মধ্যে ট্রাম্প ও শির দ্বিতীয় বৈঠক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ নিজেদের স্বার্থ ও সীমারেখা স্পষ্ট করার পাশাপাশি মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের জন্য যোগাযোগের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে পারে।
তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে নতুন কিছু সহযোগিতা চুক্তি বা সমঝোতা হলে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা আরও গভীর হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার ধারণার বিপরীতে বাস্তব সহযোগিতার সুযোগ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞ কিয়ান ফেং মনে করেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। জনস্বাস্থ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুল্ক, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন বাধা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। কিয়ান ফেং মনে করেন, এসব কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতির কারণে শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সহযোগিতা কমেছে, যা পুনরুদ্ধারে দুই পক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়াতে, মতপার্থক্য যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে আগ্রহী। তথ্যসূত্র: তাস, এএফপি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন