প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে জিডিপিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)-এর প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘একাডেমিয়া-ইন্ড্রাস্ট্রি কোলাবরেশন’ শীর্ষক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউএফটিবি এবং ‘গোপ্ল্যান লিমিটেড’-এর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে পরিণত করা। তিনি জানান, জাতীয় জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিকস, অটোমেশন, ডেটা সায়েন্স ও ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক বিভাগ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে ইউজিসি সদস্য বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরিপ্রার্থী না বানিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ ফান্ড’-এর প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি জানান, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে মোট ৮০০ কোটি টাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ জন্য পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং একাডেমিয়া-ইন্ড্রাস্ট্রি সহযোগিতার বিকল্প নেই।
বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্মার্ট নগর ব্যবস্থাপনায় ‘স্মার্ট এআই সিটি’র গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মামুন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি ও বিগ ডেটার সমন্বয়ে সেবা খাত আধুনিক করা হবে। তিনি জানান, গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সুবিধার আওতায় আনতে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ এলাকায় ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ উদ্যোগ বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিপণ্যের ওপর কর ছাড় দিয়ে গবেষক ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরিবেশ সুগম করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলীর সভাপতিত্বে গোপ্ল্যান লিমিটেডের পরিচালক মো. রইসুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আসিফ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন