প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লোহিত সাগরে সৌদি আরবের একটি সামরিক জাহাজ এবং এর সঙ্গে থাকা চারটি সহযোগী নৌযানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।
তবে এই হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সোমবার (১৭ আগস্ট) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, সৌদি সামরিক জাহাজ ও চারটি এসকর্ট নৌযানের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
তার দাবির ভিত্তিতে, হামলায় সৌদি সামরিক জাহাজটিতে ব্যাপক আগুন ধরে যায়। তিনি বলেছেন, এসকর্ট হিসেবে থাকা কিছু নৌযানও ডুবে গেছে এবং অন্য কিছুতে আগুন ধরে গেছে। তবে হুতিদের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হুতি সামরিক মুখপাত্র আরও বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং তারা সৌদি সামরিক অবস্থানগুলোতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে।
হুতিদের সর্বশেষ এই দাবির ঘটনাটি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের মোখা বন্দরের আশপাশে সামুদ্রিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে ঘটেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, গত কয়েক দিনের হুতিদের হামলার কারণে মোখা বন্দরে বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে মোখা এলাকায় ২৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে সাতজন নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বন্দরের পরিচালক জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১১ আগস্ট বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে ‘তিহামাহ’ নামে একটি মিসরীয় মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজে হুতি হামলার ফলে ছয়জন নিহত হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে তিন পাকিস্তানি এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাবিক ছিলেন। আরও দুটি ইয়েমেনি উদ্ধারকর্মীও নিহত হন।
হুতিদের দাবি ছিল যে, ওই জাহাজে সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের সামুদ্রিক তৎপরতা গত কয়েক সপ্তাহে বাড়ছে। জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করার পর থেকে হুতি গোষ্ঠীটি সৌদি-সম্পর্কিত তেলবাহী জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে একাধিক হামলার দাবি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার কারণে সৌদি আরবের লোহিত সাগর দিয়ে তেল রফতানির কিছু অংশ গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক ট্যাংকার তাদের স্বয়ংক্রিয় জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস বন্ধ রেখে চলাচল করছে। পাশাপাশি বেশ কিছু জাহাজ বাব আল-মান্দাব এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছে।
যদি হুতিদের সর্বশেষ দাবি সত্য হয়, তাহলে সৌদি সামরিক এবং নৌ স্থাপনা লক্ষ্য করে তাদের হামলার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত জাহাজে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হওয়ায় এই ধরনের হামলা শুধুমাত্র ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সংঘাতেই নয়, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও জেরুসালেম পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন