প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রথমবারের মতো সফলভাবে ৬০ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করেছে। নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করেছে এই প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিলের সঙ্গে সরকারের দেওয়া অনুদান যুক্ত করে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ভবন এবং সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখা ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এই দুই ভবনে স্থাপিত ব্যবস্থার মোট উৎপাদনক্ষমতা ৬০ কিলোওয়াট।
জেলা পরিষদের দৈনন্দিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪০ কিলোওয়াট। তাই সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজেদের চাহিদা পূরণের পর অবশিষ্ট প্রায় ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
প্রকল্পটি চালুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রকল্পটির সৌর প্যানেল স্থাপনের দায়িত্ব পালন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড’, যারা আগামী ২০ বছর এর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে সারা বিশ্বেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। নিজস্ব ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে আমরা বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারি, সেই প্রয়াস থেকেই জেলা পরিষদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, “দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই সরকারি অনুদানের সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল যুক্ত করে আমরা সফলভাবে এই প্ল্যান্টটি বাস্তবায়ন করেছি। ফরিদপুরই প্রথম জেলা পরিষদ, যারা সোলার সিস্টেম চালু করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে শুরু করেছে। আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন প্রায় ৪০ কিলোওয়াট, বাকি ২০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আমরা জাতীয় গ্রিডে যোগ করব।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে ফরিদপুর জেলা পরিষদের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন