প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বের অনেক স্থানে চীনের আপত্তির কারণে প্রকাশ্যে তাইওয়ানের পতাকা প্রদর্শন করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাইওয়ানের সেনাবাহিনী রাজধানী তাইপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি চিনুক হেলিকপ্টারের নিচে বিশাল জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে। ১০ অক্টোবর জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এটি ছিল একটি আকর্ষণীয় দৃশ্য।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর এই আয়োজন করে আসছে তাইওয়ানের সেনাবাহিনী। চীনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য জোরদার করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে চিনুক সিএইচ-৪৭এসডি মডেলের একটি হেলিকপ্টার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। হেলিকপ্টারের নিচে ঝোলানো ছিল ১৮ মিটার লম্বা ও ১২ মিটার চওড়া জাতীয় পতাকা। এ সময় জাতীয় সংগীতও পরিবেশিত হয়। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন, যেখানে তিনি সরকারের নীতিগত লক্ষ্য এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন।
গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে চীন। তাইওয়ানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর যোগাযোগ সীমিত করতে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের চেষ্টা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে তাইওয়ানের জাতীয় পতাকা প্রদর্শন বন্ধের চেষ্টাও এর অংশ।
অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাইওয়ান ‘চীনা তাইপে’ নামে অংশগ্রহণ করে। সেখানে নিজেদের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে আলাদা নকশার একটি প্রতীক ব্যবহার করতে হয়। তাইওয়ান ও চীন—কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য পক্ষের সরকারকে স্বীকৃতি দেয় না।
তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের আয়োজন সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চেয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে দপ্তরটি কোনো জবাব দেয়নি। গত বছর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের ভাষণের পর চীন তাকে ‘সমস্যা সৃষ্টিকারী’ ও ‘যুদ্ধবাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।
জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের মহড়ায় অংশ নেওয়া হেলিকপ্টারের একজন চালক ৪০ বছর বয়সী লিন চ্যাং-চেং রয়টার্সকে বলেন, "জাতীয় পতাকা দেশের সার্বভৌমত্বের বাস্তব প্রতীক।" তাইপের সোংশান বিমানবন্দরে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানকে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়। তাই জাতীয় পতাকা উড়তে দেখলে মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।"
তবে তাইওয়ানের ভেতরেও জাতীয় পতাকা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে যারা চীন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে, তারা এই পতাকার প্রতীকী অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারপরও অনেকের কাছে আকাশে বিশাল পতাকা উড়তে দেখা একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। তাইপের উপকণ্ঠে মহড়া দেখছিলেন ৪৪ বছর বয়সী সিয়াও শাও-চুন। তিনি বলেন, "তাইওয়ানের পতাকা তার কাছে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক।"
পতাকাটি হেলিকপ্টারের নিচে লম্বা ও ভারী একটি তারের সাহায্যে ঝোলানো হয়। এটি তৈরি করা হয়েছে প্যারাশুট তৈরিতে ব্যবহৃত একই ধরনের মজবুত ও হালকা উপাদান দিয়ে।
১৯১১ সালের এক বিদ্রোহের বার্ষিকী উপলক্ষে তাইওয়ানের জাতীয় দিবস পালন করা হয়। ওই বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে চীনের শেষ রাজবংশের পতন ঘটে। পরে প্রতিষ্ঠিত হয় চীন প্রজাতন্ত্র। ১৯৪৯ সালে মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্টদের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে পরাজিত হয়ে চীন প্রজাতন্ত্রের সরকার তাইওয়ানে চলে যায়। একই বছর কমিউনিস্টরা গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এখনো তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম চীন প্রজাতন্ত্র।
শীতল যুদ্ধের সময় তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের আয়োজন মূলত সামরিক শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হতো। সে সময়ের ভাষণে চীনের মূল ভূখণ্ড পুনর্দখলের কথাও বলা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে আয়োজনের ধরন বদলেছে। এখন তাইওয়ানের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন তাইপে ১০১-এ আতশবাজির প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন