প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ অবকাঠামোয় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)-নির্ভর আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামোর কারণে বাজারে কাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে না। এই কারণে ইন্টারনেটের দাম কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উল্লেখ করেছেন যে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে বিনিয়োগের সুযোগ সহজ করতে হবে। পাশাপাশি সাবমেরিন ক্যাবলের ল্যান্ডিং স্টেশনে উন্মুক্ত ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা আবশ্যক। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর সুফল গ্রাহকরা লাভ করবেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও টেক জায়ান্টদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ : বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
টিআরএনবির সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মাহমুদ শাহেদ এবং আইএসপিএবির কোষাধ্যক্ষ মইন উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সমীর কুমার দে।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল হাকিম, সিডিনেট কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান।
সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিএসসিপিএলসি সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫—দুটি সাবমেরিন ক্যাবলে মোট ৮১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকার বেশি।
সেমিনারে জানানো হয়, ২০০৬ সালে বিটিসিএল এক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করত। পরবর্তীতে বিএসসিপিএলসি ব্যান্ডউইথ বিক্রি শুরু করে। ২০১৬ সালে এক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম কমে ৫০০ টাকায় নেমে আসে। বর্তমানে তা ১২০ টাকা।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চালু করে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ২০২৭ সালে এক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
সেমিনারে আরো জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা ও অবকাঠামোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংযোগের সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার ঘাটতি, অনুকূল নীতিমালার অভাব এবং বিএসসিপিএলসিনির্ভর অবকাঠামোর কারণে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হাইপারস্কেলারদের বিনিয়োগে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) পক্ষ থেকে মনোপলি কমিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগ ও উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করা, ল্যান্ডিং স্টেশনে ক্যারিয়ার-নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল ও ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া দেশীয় ফাইবার শেয়ারিং বাড়ানো, ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট (আইএক্সপি) ও স্থানীয় পিয়ারিং সম্প্রসারণ এবং ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো ও সরঞ্জামের ওপর কর যৌক্তিকীকরণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
আলোচনায় আমিনুল হাকিম বলেন, বিএসসিপিএলসির একচেটিয়া ব্যবস্থা বহাল রেখে দেশে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট নিশ্চিত করা কঠিন। আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামোয় প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে। বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে ব্যান্ডউইথের বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর সুফল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাবে।
বক্তারা বলেন, নতুন সাবমেরিন ক্যাবল ও বিকল্প আন্তর্জাতিক রুটের সুযোগ সীমিত থাকলে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে। আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামোয় প্রতিযোগিতা, স্থিতিশীল ও পূর্বাভাসযোগ্য নীতিমালা এবং প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামো হাবে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন