প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বেগঘন বার্তা দিয়েছেন। ছবিটি সংগৃহীত। বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হলে শিরোপা জিতার স্বপ্ন ভেঙে যায়। কিন্তু মেসির কঠিন মুহূর্তে তার পাশে দাঁড়িয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সেই বার্তায় তিনি লিখেছেন, ফল যাই হোক না কেন, মেসিই তার কাছে সবসময় বিশ্বের সেরা। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তোনেলা লেখেন, ‘তুমি সবসময়ই সেরা, মেসি। শুধুমাত্র তোমার প্রতিভার জন্য নয়, বরং তুমি কখনো তোমার পরিচয় বদলাওনি বলেই। যা-ই ঘটুক না কেন, তুমি কখনো হাল ছাড়ো না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাও এবং নিজের সবটুকু উজাড় করে দাও। এই মানসিকতা, এই শক্তি এবং বারবার ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই তোমাকে অনন্য করে তুলেছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘তুমি প্রতিদিন আমাদের শেখাও, সত্যিকারের সাফল্য আসে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ, অধ্যবসায় এবং নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখার মধ্য দিয়ে। তুমি শুধু আমাদের সন্তানদের জন্য নয়, কোটি কোটি মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণা। শব্দে প্রকাশ করার মতো নয়, আমি তোমাকে কতটা শ্রদ্ধা করি। তোমার পাশে জীবন কাটাতে পারছি, এ জন্য আমি গর্বিত। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
’ ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তুলেছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৮ গোল করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে জয়ের পথে সহযোগিতা করেছেন। তবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে, স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগের সামনে মেসি অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিলেন। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে পরিশেষে ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনা হেরে যায়। ম্যাচ শেষে আবেগঘন মুহূর্তে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। তার সেই মুহূর্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মাঝেই গত ৩০ জুন মেসি ও আন্তোনেল্লা তাদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছেন। ২০১৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির সংসারে রয়েছে তিন সন্তান- থিয়াগো, মাতেও ও সিরো। বিশ্বকাপজুড়েই তিন সন্তানকে নিয়ে গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচে মেসিকে সমর্থন করেছেন আন্তোনেলা। মেসি ও আন্তোনেল্লার পরিচয় শৈশবে ঘটে, আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। আন্তোনেল্লার চাচাতো ভাই এবং মেসির বন্ধু লুকাস স্কালিয়ার মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ফুটবল ক্যারিয়ার গড়তে বার্সেলোনায় চলে যাওয়ায় তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, তবে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। ২০০৫ সালে, আন্তোনেল্লার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী উরসুলা নটজ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে, সমবেদনা জানাতে রোজারিওতে থাকা আন্তোনেল্লার পাশে দাঁড়ান মেসি। সেই সময় থেকেই তাদের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। কয়েক বছর পর তারা প্রকাশ্যে প্রেমের সম্পর্কের কথা জানান এবং পরে একসঙ্গে সংসার শুরু করেন। যদিও বিশ্বকাপের ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে, তবুও আন্তোনেল্লার বার্তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, মাঠের সাফল্য এবং ব্যর্থতার বাইরে মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার পরিবার। কোটি সমর্থকের মতোই তার স্ত্রীও বিশ্বাস করেন, একটি ম্যাচ বা একটি ফাইনালের ফলাফল লিওনেল মেসির কিংবদন্তি মর্যাদাকে একটুও কমাতে পারে না। তার কাছে মেসি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন- সবসময়ই সেরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন