প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কলম্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা সারাবিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রসিকিউটাররা। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করা এক গৃহকর্মীকে মিথ্যা শনাক্তকরণের পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য করেছিলেন।
বিবিসি জানায়, গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে সারাবিয়ার বাসা থেকে নগদ টাকাভর্তি একটি ব্যাগ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তবে গৃহকর্মী শুরু থেকেই চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ২০২৩ সালে কলম্বিয়ার সাপ্তাহিক সংবাদপত্র সেমানায় এই ঘটনার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সারাবিয়ার ছেলের দেখাশোনার জন্য নিয়োগ দেওয়া গৃহকর্মী মারেলবিস মেসাকে মিথ্যা শনাক্তকরণের যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ঘটনার সময় সারাবিয়া কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আরো পড়ুন
নাশকতার সন্দেহে নেদারল্যান্ডসে বড় ধরনের রেল বিপর্যয়। প্রসিকিউটারদের অভিযোগ, সারাবিয়া তার বাসা থেকে টাকা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন মেসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য। প্রসিকিউটারদের মতে, এই নির্দেশ ক্ষমতার অপব্যবহার ছিল। কারণ, সারাবিয়ার ব্যক্তিগত বাসা থেকে টাকা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তার সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং সরকারি ব্যবস্থাকে ব্যক্তিগত একটি বিষয় তদন্তে ব্যবহার করা হয়েছে। এক শুনানিতে সারাবিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মেসা সে সময় সেমানাকে জানান, সারাবিয়ার গাড়িচালক তাকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের বিপরীতে একটি সরকারি ভবনে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর তার মনে হয়েছিল, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে মিথ্যা শনাক্তকরণের পরীক্ষার জন্য একটি যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করেন। এরপর সারাবিয়ার বাসা থেকে টাকা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরীক্ষার সময় মেসা টাকা চুরি করার কথা অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি নিয়মিতভাবে কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।
আরো পড়ুন
বাল্টিক সাগরে রুশ যুদ্ধজাহাজের ফ্লেয়ার ছোড়ার অভিযোগ ডেনমার্কের। লরা সারাবিয়া ছিলেন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের একজন। পেত্রো ২০২২ সালে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সারাবিয়ার বয়স তখন ছিল ৩২ বছর। পেত্রোর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তিনি দ্রুত আলোচনায় আসেন। ২০২৩ সালের জুনে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তার পদ থেকে সারাবিয়া পদত্যাগ করেন। পরে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগ করার পর তাকে যুক্তরাজ্যে কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
আরো পড়ুন
নাশকতার সন্দেহে নেদারল্যান্ডসে বড় ধরনের রেল বিপর্যয়। সারাবিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তার আইনজীবীরা দেখছেন। তিনি বিচারিক কর্তৃপক্ষের প্রতি সম্মান রয়েছে বলেও জানান। সারাবিয়া বলেন, তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান করবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন