শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১২ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কক্সবাজার জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আমীর মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ মন্তব্য করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নৈতিক অবক্ষয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কস্থ দলীয় কার্যালয়ে জেলা জামায়াতের এক দায়িত্বশীল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকটি জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, কক্সবাজারসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ‘ভুতুড়ে বিলের’ কারণে গ্রাহকরা হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, জনগণ আশ্বাসের পরিবর্তে সমস্যার কার্যকর সমাধান দেখতে চায়।
জামায়াতের এই নেতা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। বৈঠকে আওয়ামী লীগকে ‘পতিত ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করেন, তারা দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় দুই হাজার মানুষ হত্যার ঘটনায় যাদের কোনো অনুশোচনা নেই, তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয়। তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের দায়িত্বশীলদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বৈঠকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, মাওলানা দেলাওয়ার হোছাইন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ, আল আমীন মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, অফিস সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান, সমাজকল্যাণ সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুল হোছাইন সিদ্দিকী, কক্সবাজার শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক, সদর আমীর অধ্যাপক খুরশিদ আলম আনসারী, রামু উপজেলা আমীর ফজলুল্লাহ মু হাসান, ঈদগাঁও উপজেলা আমীর মাওলানা সলিম উল্লাহ জিহাদী, চকরিয়া পৌরসভা আমীর আরিফুল কবীর, মাতামুহুরী উপজেলা আমীর মাওলানা ফরিদুল আলম, পেকুয়া উপজেলা আমীর মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, কুতুবদিয়া উপজেলা আমীর আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী, মহেশখালী উপজেলা উত্তর আমীর মাস্টার নজরুল ইসলাম, উখিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা আবুল ফজল, টেকনাফ উপজেলা আমীর মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল্লাহ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি মুহাম্মদ মুহসিন, চকরিয়া উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা ছৈয়দ করীম, সদর সেক্রেটারি আজিজুর রহমান এবং আইনজীবী শাখার সেক্রেটারি এড. ফিরোজ আহমদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মধ্যে সংঘাতের ফলে পেন্টাগন যে মৃত্যুর সংখ্যা ঘোষণা করেছে, প্রকৃতপক্ষে তার চেয়ে বেশি মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছে। এই দাবি উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে। তবে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই প্রতিবেদনের তথ্যকে সম্পূর্ণরূপে অসত্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রতিবেদনটি পাঁচজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, চলমান এই সংঘাতে অন্তত ২২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনের জনসমক্ষে প্রকাশিত তথ্যভান্ডারের তুলনায় এই সংখ্যা অন্তত চারজন বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি অথবা এই সংঘাতের সাথে সম্পর্কিত পরিস্থিতিতে এসব সেনার মৃত্যু ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি বার্তায় এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।
তথ্যের এই অমিল বা তফাত সম্পর্কে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সঠিক তথ্য গোপন করার বিষয়টি নিয়ে দেশটির নীতি নির্ধারণী মহলে নতুন আলোচনা এবং বিতর্ক শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রায় এক বছর হতে চলেছে কথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা এবং প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৩,৯১০ জনে পৌঁছেছে।
শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে আহত মানুষের সংখ্যা বর্তমানে ১,৭৪,৯১৪ জন। এছাড়া বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণের ফলে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজায় ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক হামলার কারণে গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, উদ্ধারকাজ এবং পূর্ণাঙ্গ হিসাব সম্পন্ন হলে মোট নিহতের সংখ্যা ১ লাখের বেশি হয়ে যাবে।
জার্মানিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ'-এর প্রকাশিত একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, আগ্রাসনের প্রথম দুই বছরে গাজায় আনুমানিক ১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল অবরোধ এবং ভয়াবহ সামরিক অভিযান শুরু করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘকাল ধরে ইরান, গাজা, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে বহুমুখী যুদ্ধ পরিচালনার কারণে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্যাংকের অভাব, সেনাদের ছুটি বাতিল করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২টি অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার প্রক্রিয়া আটকে যাওয়ার খবর সাম্প্রতিক সময়ে হিব্রু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট বাস্তবতার চেয়ে অস্ত্র সংগ্রহের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং দৈনিক মারিভের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, টানা যুদ্ধের ফলে তাদের অনেক ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতিগ্রস্ত যানগুলোর মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট নেই। অন্যদিকে, বাজেটের অভাবে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামরিক বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের সঙ্গে একমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীতে সত্যিকার অর্থে সংকট তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। এই ধরনের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া মূলত ওয়াশিংটন ও ইউরোপ থেকে দ্রুত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ার জন্য একটি পুরনো কৌশল। অন্যান্য দেশ যেভাবে অস্ত্রের মজুদকে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত মনে করে, ইসরায়েল সেটিকে সংকটজনক হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ তারা একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা নীতিগত পরিবর্তনের আগে চুক্তিগুলো দ্রুত নিশ্চিত করাই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৬০ হাজারটি দূরপাল্লার বোমা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।
অন্যদিকে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলি বাহিনীতে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ সক্রিয় সেনা এবং ৪ লাখ ১৯৬৫ হাজার রিজার্ভ সেনা ছিল। তবে টানা সংঘাতের কারণে সেনাসংখ্যা বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছেন সেনাপ্রধান এজাল জামির। তিনি পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উগ্র অর্থোডক্স (হারেদি) তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও প্রায় ২৪ হাজার সমনের বিপরীতে মাত্র ১ হাজার ২০০ জন এতে সাড়া দিয়েছেন।
গাজা, লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধগুলো পরিচালনার জন্য ইসরায়েলের হাতে যথেষ্ট অস্ত্র রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিতেই আগাম এসব সরঞ্জাম ও সেনার ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে তেল আবিবের পক্ষ থেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ