প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েল সরকারের সরকারি পাবলিক ম্যাপিং পরিষেবা ‘গভম্যাপ’-এ কিছু সময়ের জন্য গাজার উত্তরাঞ্চলের উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি দেখা গিয়েছিল। এসব ছবিতে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং যুদ্ধের কারণে ব্যাপক ধ্বংসের চিত্রও দৃশ্যমান হয়েছিল। পরবর্তীতে গভম্যাপ গাজার ছবিগুলো আবার ঝাপসা করে দেয়।
সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসে। এই অ্যাকাউন্টটি ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) নিয়ে কাজ করে এবং গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করার জন্য পরিচিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলি সরকার তাদের সরকারি ম্যাপিংসেবায় গাজার বিভিন্ন এলাকার স্যাটেলাইট চিত্র আবার ঝাপসা করে দেয়।
গভম্যাপে দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকার পাশাপাশি ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি ঝাপসা করে দেখানো হয়েছে। ফলে গাজার তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান হওয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। ঝাপসা না থাকা ওই চিত্রে উত্তর গাজার কয়েকটি এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন শহরও রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এই এলাকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ছবিগুলো ২০২৫ সালের। তাই এগুলো ইসরায়েলি সেনাদের ঘাঁটিগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখায় না। তবে ছবিতে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যায়। পাশাপাশি, ইসরায়েলি সেনাদের বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি সামরিক ঘাঁটিও দেখা গেছে। এক্স ব্যবহারকারী ‘@Nrg8000’ ছবিগুলো সোয়ার অ্যাটলাসেও প্রকাশ করেছেন। মিডল ইস্ট আই ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ছবিগুলো গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং ব্যাপক ধ্বংসের বিষয়ে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে যায়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩,৯২৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ১,৪০৮ জন নিহত এবং ৪,৯১৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন স্বাধীন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
বেইত হানুনে ব্যাপক ধ্বংস
গাজা ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোর ধ্বংসের কিছু সেন্সরবিহীন ছবি নিচে দেওয়া হলো। গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত হানুন শহরটি ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের কারণে শহরের বেশির ভাগ মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। পরে এলাকাটিকে সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
শুজাইয়ায় ব্যাপক ধ্বংস
গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। অনেক ভবন ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া তেমন কিছুই দেখা যায় না।
কারনি ক্রসিংয়ে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন
ছবিতে গাজা শহরের জেইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কারনি ক্রসিংয়ে ইসরায়েলি সেনাদের বড় ধরনের উপস্থিতি দেখা যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার আরো ভেতরে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইসরায়েলি বাহিনী এলাকাটিকে একটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।
পূর্ব জাবালিয়ায় সামরিক ঘাঁটি
পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সামরিক ঘাঁটি দেখা যাচ্ছে। ছবিতে ঘাঁটির চারপাশে মাটির তৈরি উঁচু প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং অনেক সামরিক যান দেখা যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন