প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে পণ্য আমদানির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা শুল্ক ফাঁকির একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে সরকার বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য এবং দেশের বাজার ব্যবস্থায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১৬ মাসে ৯০০টি পণ্য চালান পরীক্ষা করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় করেছে। তবে, কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণায় বেশি শুল্কের পণ্য আমদানির প্রবণতা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ ২৭০টি সন্দেহজনক আমদানি চালান জব্দ করে ৫৮ কোটি টাকা বাড়তি শুল্ক আদায় করেছে। পাশাপাশি, জরিমানা হিসেবে আদায় হয়েছে অন্তত ২০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১ হাজার ৪৫১টি সন্দেহজনক চালানের ডেলিভারি লক করে। এর মধ্যে ৮৪৩টি ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। এসব চালান পরীক্ষা করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ৫২ কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব এবং ৫৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে আদায় হয় ১১১ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, গত ১৬ মাসে এআইআর, আনস্টাফিং ও জেটির পাঁচটি জোনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে। কাস্টমস আইন অনুযায়ী, আমদানি করা পণ্যের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং সময়ক্ষেপণের কারণে বাস্তবে ৫ থেকে ৮ শতাংশের বেশি পণ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু আমদানিকারক কম শুল্কহারের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে বেশি শুল্কের পণ্য আমদানি করছেন।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব মন্তব্য করেন, এতে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যারা নিয়ম মেনে শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য আমদানি করেন, তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে সৎ ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। সম্প্রতি সাধারণ যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ি আনার একাধিক চালান জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আকতার পারভেজ বলেন, এসব সিবিইউ গাড়ি তুলা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে। কীভাবে এসব পণ্য বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকের পাশাপাশি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকেও দায়ী করা হচ্ছে। তবে এবার এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কাস্টমসকে সহযোগিতা করছে কাস্টমস এজেন্ট কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম জানান, কাস্টমসকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। অনেক সময় আমদানিকারকরা ভুল এইচএস কোড ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এমনকি তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতি অর্থবছরে ৪ থেকে ৫ লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়। এসব আমদানি থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। কিন্তু গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে সরকার শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের হিসাবেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন