প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : হামাসের নেতা খলিল আল-হাইয়া শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, গাজার ‘রক্ত’কে নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে ইসরাইলিরা বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল-আরাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তি বা ওই ব্যক্তি ক্ষমতায় আসুক, কিংবা এই দল বা অন্য কোনো দল—আমাদের জনগণ সব ইসরাইলি দলের হাতেই ভুগেছে।’
দোহা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের রক্ত, দুর্ভোগ ও অধিকারকে ইসরাইলের নির্বাচনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের জনগণ তাদের লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা ও বৈধ অধিকার অর্জন করুক।’
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
নির্বাচনের আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার অঙ্গীকার করেছেন। হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে বলে যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি উদ্যোগে বলা হয়েছে, সেটিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইসরাইল এই প্রতিশ্রুতিকে সন্দেহের চোখে দেখছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার পর এটি প্রথম নির্বাচন। ওই হামলায় যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে ঢুকে ১,২২১ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।
এর জবাবে ইসরাইলের চালানো ব্যাপক সামরিক অভিযানে গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিপুলসংখ্যক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ অভিযানে ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মন্ত্রণালয়টি হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন। তবে জাতিসংঘের কাছে এর দেওয়া পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত।
জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট উঠে এসেছেন। তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় ছিলেন। তবে কৌশলগত ব্যর্থতার জন্য তিনি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন।
এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ২৮ নভেম্বর আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করেছে। দুই দশকের মধ্যে এটিই হবে প্রথম এমন নির্বাচন। তবে নির্বাচনটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে।
২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে হামাস জয়ী হয়ে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহকে পরাজিত করে। এরপর থেকে ৯০ বছর বয়সী আব্বাস ডিক্রি জারি করে শাসন করে আসছেন। আইনসভাকে অধিবেশনে বসতে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
আব্বাস পশ্চিম তীরে অবস্থান করছেন। সেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সীমিত স্বায়ত্তশাসন রয়েছে।
হাইয়া বলেন, ‘জাতীয় কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি এবং প্রকৃত ঐক্য অর্জনের লক্ষ্যে আমরা প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে বসতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনি নির্বাচন স্থগিত করা হলে সেই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ঘর গুছিয়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।’
হামাস ফাতাহর সাবেক নেতা মোহাম্মদ দাহলানের সঙ্গে একটি জোট গঠনে কাজ করছে। গাজায় জন্ম নেওয়া দাহলান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন।
হাইয়া বলেন, ‘নির্বাচন স্থগিত হলে জোট অটুট থাকবে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর লক্ষ্য হবে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় ফ্রন্ট গড়ে তোলা।’
তবে হামাস আদৌ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। আব্বাস সব প্রার্থীকে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্মসূচি মেনে নেওয়ার শর্ত দিয়েছেন। ১৯৯৩ সালে অসলো শান্তি চুক্তির সূচনাকালে পিএলও ইসরাইলের অস্তিত্বের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন